পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন
বাংলায় বিজেপির ঢেউ, ভবানীপুরে পিছিয়ে মমতা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১১:২৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ এর ভোট গণনা চলছে। সবশেষ পাওয়া খবরে দেখা যাচ্ছে, অর্ধেকেরও বেশি আসনে এগিয়ে থেকে স্বাচ্ছন্দ্যজনক ব্যবধান তৈরি করেছে বিজেপি। অন্যদিকে টানা প্রায় ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস পরাজয়ের শঙ্কায় পড়েছে।
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) এর আওতায় বিপুলসংখ্যক ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন।
নিজেদের শক্ত ঘাঁটি ধরে রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে বিজেপির সঙ্গে। এ লড়াইয়ের অন্যতম মুখ বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি একসময় তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। এছাড়া কংগ্রেস ও বামফ্রন্টও নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। একইসঙ্গে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবিরের গড়া নতুন একটি দল রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ফলতা কেন্দ্রসহ কয়েকটি স্থানে অনিয়মের অভিযোগে কিছু বুথে পুনর্ভোটের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।
আরো পড়ুন : পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিজেপি
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় মোট ২৯৪টি আসন রয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসনের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ফলে যে কোনো দল বা জোটকে সরকার গড়তে এই সংখ্যা অর্জন করতেই হবে।
এবারের এক্সিট পোলগুলো কোনো নির্দিষ্ট বিজয়ীর ইঙ্গিত দিতে পারেনি, ফলে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসনে জয়লাভ করেছিল। অন্যদিকে বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়। কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট তখন কোনো আসন পায়নি। সে সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হলেও পরে ভবানীপুর আসন থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হন। এবার শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরেই লড়াইকে নিয়ে এসেছেন, যা ভোট গণনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
সারা রাজ্যজুড়েই এবারের নির্বাচন ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একদিকে তৃণমূলের উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে পরিবর্তনের ডাক, এই দুই ধারার মধ্যে লড়াই ঘিরে উত্তপ্ত ছিল পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ।
