বিধানসভা নির্বাচন
অসম্ভবকে সম্ভব করতে চলেছেন বিজয় থালাপাতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আবারও এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। প্রায় ছয় দশক আগে এই রাজ্যই প্রথম কংগ্রেসের আধিপত্য ভেঙে একটি আঞ্চলিক দলকে ক্ষমতায় এনেছিল। এবারও তেমনই আরেকটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চলমান ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয় থালাপাতির দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, এটি শুধু তামিলনাড়ু নয়, পুরো ভারতের রাজনীতিতেই একটি বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো নতুন দল প্রথম নির্বাচনে এত বড় সাফল্য পেয়েছে। টিভিকের এই উত্থান তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কাঠামো ডিএমকে ও এআইএডিএমকে দীর্ঘদিন যে প্রভাব বিস্তার করে এসেছে তাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরো পড়ুন : তামিলনাড়ু ভোটে চমক, এগিয়ে বিজয় থালাপাতি
১৯৬৭ সালে তামিলনাড়ু প্রথম আঞ্চলিক দলকে ক্ষমতায় এনে ইতিহাস তৈরি করেছিল। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যটি ডিএমকে ও এআইএডিএমকের শাসনে ছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন আসতে পারে।
বিজয়ের সম্ভাব্য সাফল্য একাধিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম নির্বাচনে একটি দল এককভাবে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠা বিরল ঘটনা। এর আগে ১৯৮৩ সালে অন্ধ্রপ্রদেশে এন টি রামা রাওয়ের দল টিডিপি গঠনের মাত্র নয় মাসের মধ্যে ক্ষমতায় এসে নজির স্থাপন করেছিল। পরে আসামে এজিপি এবং দিল্লিতে আম আদমি পার্টিও প্রথম নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়, যদিও তাদের পেছনে শক্ত সামাজিক আন্দোলন ছিল।
টিভিকের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। দলটি কোনো দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলন বা আদর্শিক ভিত্তির ওপর গড়ে ওঠেনি। এএপি বা এজিপির মতো স্পষ্ট মতাদর্শও নেই। পাশাপাশি শক্তিশালী দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। মূলত পুরো দলটিই বিজয়কেন্দ্রিক।
এমজি রামচন্দ্রনের সঙ্গে তুলনাও পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। এমজিআর ডিএমকে থেকে বের হয়ে ১৯৭২ সালে দল গঠন করলেও ক্ষমতায় আসতে তার পাঁচ বছর সময় লেগেছিল। তাছাড়া তিনি দল গঠনের আগেই দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
সব মিলিয়ে, বিজয়ের নেতৃত্বে টিভিকের এই অপ্রত্যাশিত উত্থান তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত এই ধারা বজায় রেখে তারা সত্যিই ইতিহাস গড়তে পারে কি না।
