×

ভারত

তামিলনাড়ু বিধানসভা

স্তালিনের অপ্রত্যাশিত পরাজয়, বাবুর প্রতিশোধের জয়

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

স্তালিনের অপ্রত্যাশিত পরাজয়, বাবুর প্রতিশোধের জয়

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে এমকে স্তালিনের অপ্রত্যাশিত এই পরাজয় যেন ডিএমকের রাজনীতিতে বড় এক মোড় ঘুরিয়ে দিল। প্রশ্ন উঠছে, তাঁকে হারালেন কে? এক সময়ের অসন্তুষ্ট কর্মী, এক শক্তিশালী নেতৃত্বের ছায়ায় বেড়ে ওঠা রাজনীতিক, আর শেষ পর্যন্ত এক মধুর প্রতিশোধ—এই তিন উপাদানেই গড়ে উঠেছে এই নাটকীয় পরিণতি।

২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আরেকটি বড় চমক দেখা গেল সোমবার (৪ মে)। টিভিকে নেতা ভিএস বাবু মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্তালিনকে তাঁর নিজস্ব ঘাঁটি কোলাথুরে হারিয়ে দিয়েছেন। বাবু স্তালিনের চেয়ে ৯,১৯২ ভোট বেশি পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কোলাথুর আসনটি গঠিত হয়। ওই বছর তৎকালীন উপমুখ্যমন্ত্রী স্তালিন এআইএডিএমকের সাইদাই দুরাইসামিকে ২,৭৩৪ ভোটে হারান। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালে তাঁর জয়ের ব্যবধান আরো বড় হয়। এআইএডিএমকের জেসিডি প্রভাকর ও আদি রাজারামকে তিনি যথাক্রমে ৩৭,৭৩০ ও ৭০,৩৮৪ ভোটে পরাজিত করেন।

আরো পড়ুন : বহিরাগত বিজয় কীভাবে ভোটারদের মন জয় করলেন

সব মিলিয়ে কোলাথুর ছিল একপ্রকার অজেয় রাজনৈতিক দুর্গ। কিন্তু সোমবার সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে যায়।

২০১১ সালের নির্বাচনে ফিরে গেলে দেখা যায়, ডিএমকে স্তালিনকে তাঁর পুরোনো আসন থাউজেন্ড লাইটস থেকে সরিয়ে নতুন কোলাথুরে পাঠায়। থাউজেন্ড লাইটস আসন থেকে তিনি আগের ছয় নির্বাচনের মধ্যে চারবার জিতেছিলেন। কোলাথুরেও তিনি জয় পান, তবে প্রত্যাশার তুলনায় লড়াইটা বেশি কঠিন হয়ে ওঠে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার জন্য দায়ী করা হয় ভিএস বাবুকে, তিনি তখন স্তালিনের নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বে ছিলেন।

২০১১ সাল পর্যন্ত উত্তর চেন্নাইয়ের জেলা ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁকে স্তালিনের প্রচারণা তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যাশা ছিল বড় ব্যবধানে জয়, কিন্তু বাস্তবে সেই ব্যবধান ততটা হয়নি।

প্রসঙ্গত, স্তালিন তাঁর রাজনৈতিক জীবনে মাত্র পাঁচবার ১০ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন। ২০১১ সালের আগে সর্বশেষ বড় ব্যবধানের জয় ছিল ১৯৯৬ সালে। তখন তিনি ৪৪,৮৭৭ ভোটে থাউজেন্ড লাইটস আসনে জয়ী হন। এই তুলনামূলক কম ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত বাবুর জন্য নেতিবাচক হয়ে দাঁড়ায়। ডিএমকে তাঁকে সরিয়ে দিয়ে উত্তর চেন্নাইয়ের জেলা প্রধান হিসেবে পিকে শেখর বাবুকে দায়িত্ব দেয়। এরপর ২০১৬ সালের জুনে ভিএস বাবু এআইএডিএমকেতে যোগ দেন।

আর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি যোগ দেন টিভিকেতে। পেছন ফিরে তাকালে এখন মনে হচ্ছে, এটি ছিল এক কৌশলী সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে তিনি ঠিক সেই কাজটাই করেছেন যার জন্য তাঁকে সামনে আনা হয়েছিল।

সোমবারের এই ফলাফল শুধু একটি আসনের হার-জিত নয়, এটি ডিএমকে ও এমকে স্তালিনের জন্য এক প্রতীকী ধাক্কা। আর ভিএস বাবুর জন্য বহুদিনের জমে থাকা হিসাব চুকানোর এক সফল পরিণতি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই, এটি একটি অপরাধ’

‘চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই, এটি একটি অপরাধ’

ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে চোরাই গরু উদ্ধার, ভাই আটক

ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে চোরাই গরু উদ্ধার, ভাই আটক

চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম, ক্ষোভে ফুঁসছে অভিভাবকরা

স্কুল ফিডিংয়ে পচা ডিম, ক্ষোভে ফুঁসছে অভিভাবকরা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App