মোদির পদত্যাগ দাবি ককরোচ জনতা পার্টির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অনশনরত শিক্ষাসংস্কারক ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। একই দাবিতে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, পুলিশ জোরপূর্বক সোনম ওয়াংচুককে অনশনস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে তার পরিবারকেও আগে থেকে অবহিত করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
দীপকে বলেন, সরকার যদি মনে করে ওয়াংচুককে সরিয়ে দিলে আন্দোলন থেমে যাবে, তবে তারা ভুল করছে। আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং আগামী ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিমুখে পূর্বঘোষিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিও যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, এতদিন তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন। তবে ওয়াংচুককে অনশনস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ককরোচ জনতা পার্টি জানায়, অভিজিৎ দীপকে অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন এবং ২০ জুলাইয়ের কর্মসূচি পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই পালন করা হবে।
এর আগে, নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তিনি এই কর্মসূচি পালন করছিলেন।
শনিবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অনশনস্থলে পৌঁছে তাকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে ভারতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশনে যোগ দেন সোনম ওয়াংচুক।
ওয়াংচুকের আন্দোলনকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার আন্দোলনের প্রতি ব্যাপক সমর্থন দেখা গেছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে, দ্য হিন্দু।
