হাসনাত আবদুল্লাহ
ব্যবসায়ী ও বালুখেকোদের টাকায় নির্বাচিতরা জনগণের কথা বলে না
মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ব্যবসায়ী বা বালুখেকোদের টাকায় যারা রাজনীতি করে সংসদে যান, তারা কখনো জনগণের স্বার্থের কথা বলেন না। তারা যাদের অর্থে নির্বাচিত হন, তাদের পক্ষেই অবস্থান নেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জনগণের কাছেই জবাবদিহি করেন। কিন্তু টাকা কিংবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তিরা কখনো জনগণকে ভয় পান না।
রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাইপাস মোড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত কেন্দ্রীয় দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভা ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে এনসিপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। সেই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, তার মূল্যায়ন জনগণই করবেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা আপনাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আমাদেরকে নির্বাচিত করলে আমরা সংসদে গিয়ে আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করবো। আপনারা মূল্যায়ন করবেন আমরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলছি, নাকি জনগণের পক্ষে কথা বলছি। যারা ব্যবসায়ীদের টাকায় রাজনীতি করে সংসদে যায়, তারা জনগণের কথা বলে না, ব্যবসায়ীদের কথা বলে। যারা বালুখেকোদের টাকায় নির্বাচিত হয়, তারা কখনো বালুখেকোদের বিরুদ্ধে কথা বলবে না।
নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই হবে না, সমাধানের দায়িত্বও নিজেদের নিতে হবে। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে আমরা স্লোগান দিয়েছিলাম— ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প’। তখন বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, রিকশাচালকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের উদ্যোগেই সেই বিকল্প তৈরি করেছিলেন। সেই চেতনা ধরে রেখেই দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
সংসদে নিজের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, গত পাঁচ মাসে সংসদে কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাইনি। মিডিয়া মাফিয়া, ভূমিখেকো, ব্যাংক ডাকাত ও ভোটচোরদের বিরুদ্ধে সংসদে ধারাবাহিকভাবে কথা বলে গেছি। সংসদে সবার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কারণ দিন শেষে আমাদের বৈধতা হচ্ছে আমাদের জনতা।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, আপনারা আমাদেরকে ফ্রিতে ভোট দিবেন, আমরা আপনাদের ফ্রিতে সার্ভিস দিব। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছি।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামীর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আপনাদের সামনে তরুণ প্রজন্ম থেকে আমাদের তুহিন ভাইকে এনসিপি থেকে মনোনীত করছি। আমাদের তুহিন ভাই আপনাদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাবেন। আপনারাও নিঃস্বার্থভাবে আপনাদের মূল্যবান ভোট দেবেন। আপনার সিদ্ধান্তে আপনি ভোট দেবেন, কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বার বা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির কথায় নয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ও দলের রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান তুহিন, রাজাপুর উপজেলা এনসিপির সভাপতি শাহরিয়ার শাকিলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান তুহিনকে রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। সমাবেশ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় ‘জুলাই পদযাত্রা’ রাজাপুরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।
