ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎকে আটক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি চলাকালে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। সোমবার (২০ জুলাই) সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এ তথ্য জানান। এ খবর প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সৌরভ দাস অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে পুলিশ আটক করেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ বলপ্রয়োগ ও মারধরের অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে হাজারো সমর্থক দিল্লির যন্তর-মন্তরে জড়ো হয়ে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সংসদ এলাকার নিরাপত্তা ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার এবং সীমিত বলপ্রয়োগ করা হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে সংসদ ভবনের কয়েকটি প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা একাধিক ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও আন্দোলনকারী সামান্য আহত হন। পরে ১০ থেকে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কনস্টিটিউশন ক্লাব ও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার (আরবিআই) আশপাশেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সিজেপির দাবি, ওই এলাকায় তাদের অন্তত সাতজন সমর্থককে আটক করা হয়েছে।
তবে দিল্লি পুলিশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের উপকমিশনার সচিন শর্মা বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়নি।
এছাড়া দিল্লি পুলিশ এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, যন্তর-মন্তরে ব্যাপক সহিংসতা বা গণআটকের যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। পুলিশ দাবি করেছে, পুরো পরিস্থিতি পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামাল দেওয়া হয়েছে এবং গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) চলতি বছরের মে মাসে অভিজিৎ দীপকে ব্যঙ্গধর্মী একটি ডিজিটাল সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনীতিক, সমাজকর্মী, শিল্পী ও ক্রীড়াবিদদের সমর্থন পায়।
