এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ
মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির টাকা নিয়ে ফিরছিলেন ইসমাইল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে জমি বিক্রি করেছিলেন ইসমাইল হোসেন (৫০)। সেই জমি বিক্রির টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে জামালপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। কথা ছিল সকালে গাজীপুরের জিরানীতে ছেলের কাছে পৌঁছাবেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা ফোন করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে আসে তার মৃত্যুর খবর।
শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে বনানী থানা-পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মুখে স্কচটেপ লাগানো ছিল। গায়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ছিল। পরনে ছিল লুঙ্গি। উদ্ধার করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা, দুটি মুঠোফোন ও একটি বাজারের ব্যাগ পাওয়া যায়নি।
ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর কিছুদিন স্ত্রী, দুই সন্তান ও পুত্রবধূকে নিয়ে কাশিমপুরে ছিলেন। গত চার মাস ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতে থাকলেও তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে পরিবার নিয়ে গাজীপুরে বসবাস করতেন।
আরও পড়ুন: হিজড়াদের ‘গুরুমা’ সেই মৌসুমীর মরদেহ মিলল নিজ ঘরে
নিহতের ছেলে হাসান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তার সঙ্গে বাবার ফোনে কথা হয়। তখন ইসমাইল জানিয়েছিলেন, পরদিন সকালে ঢাকায় পৌঁছাবেন। প্রথমে তার গাজীপুরের জিরানীতে যাওয়ার কথা ছিল। হাসান সেখানে অপেক্ষা করলেও বাবাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার কল করার পরও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
হাসান বলেন, পরে বনানী থানা পুলিশ জামালপুরের গ্রামের বাড়ির পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করে। সেখান থেকেই তারা বাবার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তার ভাষ্য, বাবার পরনে তখন শুধু শার্ট ও লুঙ্গি ছিল। কিন্তু সঙ্গে থাকা ৫ লাখ টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি বাটন ফোন ও বাজারের ব্যাগের কোনোটি পাওয়া যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইসমাইলের ছোট মেয়ে শারমিনের বিয়ের কথাবার্তা চূড়ান্ত করার জন্যই তিনি ঢাকায় যাচ্ছিলেন। বিয়ের খরচ জোগাতে সম্প্রতি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। ওই টাকা থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ এবং গ্রামের বাড়িতে ঘর তৈরিতে কিছু অর্থ খরচ করেন। বাকি ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে জিরানীতে ইসমাইলের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল হাসানের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তিনি না আসায় উদ্বেগ তৈরি হয়। ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে বনানী থানার মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন।
বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি মলম পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির সঙ্গে জড়িতদের কাজ—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ টাকা ও মুঠোফোন উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
