দিল্লিতে ছাত্রদের নজিরবিহীন বিক্ষোভ, উত্তপ্ত সংসদ এলাকা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সোমবার (২০ জুলাই) বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারীর উপস্থিতিতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী কার্যত অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে।
কয়েক স্তরের ব্যারিকেড, প্রায় তিন হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রেখেও বিক্ষোভ ঠেকানো যায়নি। আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তর থেকে রাইসিনা মার্গ হয়ে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হন। একপর্যায়ে তারা সংসদ ভবনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু-এর এক প্রতিবেদকের ভাষ্য অনুযায়ী, নেতৃত্বহীন এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ সংসদমুখী বিভিন্ন সড়ক দখল করে নেন। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান। পরে সংসদ ভবন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বাস আড়াআড়িভাবে রেখে তাদের অগ্রযাত্রা থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সংসদ ভবন ঘেরাওয়ের ডাক দেয় অনলাইনভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাদের আহ্বানেই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও তরুণ বিক্ষোভে অংশ নেন।
এর আগে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেছিলেন অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক। টানা ২০ দিনের অনশনের পর গত ১৮ জুলাই ভোরে পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এই ঘটনাও আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে শত শত মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন।
এদিকে আন্দোলন ঘিরে সংসদের ভেতরেও দফায় দফায় বৈঠক করেন এনডিএ সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আরো পড়ুন : বিজেপি নেতার সঙ্গে ককরোচ প্রতিনিধিদলের বৈঠক, তিন দাবি
রোববার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বিক্ষোভে জনসমাগম বাড়ার তথ্য পাওয়ার পর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেয় সরকার। দিল্লির উপ-পুলিশ কমিশনার শচীন শর্মা প্রথমে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন সিজেপির প্রতিনিধিরা।
সিজেপির সদস্য সৌরভ দাস জানান, পরে একজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন কেন্দ্রীয় সচিবের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবও তারা নাকচ করেন। তাদের অবস্থান ছিল, কেবল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের সঙ্গেই আলোচনা করবেন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে নাড্ডা জানান, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। পরে আন্দোলনকারীরা লিখিত দাবি জমা দেন। তিনি তাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এদিকে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং চলমান আন্দোলন নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
সরকারের এক কর্মকর্তা দ্য হিন্দুকে জানান, শুরুতে পুলিশকে বলপ্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং পরে লাঠিচার্জ করা হয়। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
ওই কর্মকর্তা আরো দাবি করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থনে আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে আজাদ সমাজ পার্টি (কাশিরাম), আম আদমি পার্টি ও সমাজবাদী পার্টির সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল। এছাড়া রাজস্থানসহ দিল্লির বাইরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও বিপুলসংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন।
উত্তর প্রদেশের আজমগড় থেকে আসা পুলিশে চাকরিপ্রত্যাশী নীতীশ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সংসদ ভবনের এত কাছাকাছি কীভাবে পৌঁছাতে পেরেছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথম ব্যারিকেড ভাঙার পর তারা হেঁটেই সামনে এগিয়ে যান, তখন আর কেউ তাদের থামায়নি।
