শিক্ষার্থীদের ৩ দাবি যৌক্তিক : রাহুল গান্ধী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে গত এক দশকে ১৫২ বার বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে দাবি করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, গড়ে প্রতি মাসে একটিরও বেশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কেন্দ্রীয় সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে কোটি কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।
রাহুল গান্ধী বলেন, ধারাবাহিক প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা নিজেদের সঞ্চয় ও স্বপ্ন সন্তানের শিক্ষার পেছনে ব্যয় করেন।
সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কাউকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। তার অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রাহুল বলেন, তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক এবং সরকারের উচিত দ্রুত সেগুলো বিবেচনা করা।
তিনি আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন—
১. ব্যর্থতার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ।
২. বিশেষ করে গত ২০ জুলাইয়ের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া অন্যায় পুলিশি পদক্ষেপ ও দমনপীড়নের জবাবদিহিতা।
৩. পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার অচলাবস্থার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা; কারণ একটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার মূল দায়িত্ব সরকারেরই।
শিক্ষা খাতে ব্যয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন কংগ্রেস নেতা। তিনি বলেন, সরকার বাজেটে শিক্ষা খাতে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে, একটি বড় জাতীয় পরীক্ষায় অংশ নিতে দেশের পরিবারগুলো প্রায় সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হয়।
তার দাবি, শিক্ষা খাতে সরকারের বরাদ্দ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি রুপি হলেও শুধু ‘নিট’ পরীক্ষাকে ঘিরেই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছায়।
রাহুল গান্ধীর ভাষায়, শিক্ষা ব্যবস্থা এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের অর্থনৈতিক ত্যাগ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
