×

ভারত

কলকাতায় ফিরে আবেগঘন বক্তব্য তসলিমা নাসরিনের

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২২ এএম

কলকাতায় ফিরে আবেগঘন বক্তব্য তসলিমা নাসরিনের

ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৯ বছর পর আবার কলকাতার মাটিতে পা রাখলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে তিনি নির্বাসনের দীর্ঘ যন্ত্রণা, কলকাতা ছাড়ার স্মৃতি এবং ফিরে আসার আবেগঘন অনুভূতির কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তসলিমাকে সংবর্ধনা জানান। এ সময় তিনি লেখিকাকে আশ্বস্ত করে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। ভবিষ্যতেও তিনি যখন ইচ্ছা কলকাতায় আসতে পারবেন।

সংবর্ধনা গ্রহণ করে তসলিমা বলেন, এই সম্মান ও আন্তরিকতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। তাঁর ভাষায়, “ইতিহাস মনে রাখে কারা দরজা বন্ধ করেছিল, আবার ইতিহাস এটাও মনে রাখবে কারা সেই দরজা খুলেছিল।”

তিনি বলেন, নির্বাসিত মানুষের কাছে প্রতিটি বছর কেবল সময়ের হিসাব নয়, বরং একটি বন্ধ দরজার প্রতীক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কলকাতায় ফিরে তাঁর মনে হচ্ছে, তিনি শুধু একটি শহরে নয়, জীবনের হারিয়ে যাওয়া একটি অধ্যায়ে ফিরে এসেছেন।

আরো পড়ুন : কলকাতায় ফিরে নির্বাসন নিয়ে মুখ খুললেন তসলিমা

কলকাতা বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত তাঁকে ঘিরে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা। এ বিষয়ে কৃতজ্ঞতা জানালেও একজন লেখককে নিজের ভাষার শহরে পুলিশি পাহারায় চলতে হওয়াকে দুঃখজনক বাস্তবতা বলে মন্তব্য করেন তসলিমা। তিনি বলেন, এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন, যেখানে ভিন্নমত প্রকাশের কারণে কাউকে দেশ ছাড়তে হবে না কিংবা নিরাপত্তার জন্য পুলিশি পাহারার প্রয়োজন হবে না। কোনো লেখকের জীবন রক্ষা করা মানে শুধু একজন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, বরং তাঁর স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকারও সংরক্ষণ করা।

সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে তসলিমা স্পষ্ট করেন, কৃতজ্ঞতা মানে রাজনৈতিক আনুগত্য নয়। তাঁর ভাষায়, “কৃতজ্ঞতার বিনিময়ে আমি আমার স্বাধীন চিন্তাকে বন্ধক দিই না।” তিনি বলেন, কোনো ভালো কাজের প্রশংসা করতে দলীয় পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না, যেমন ভিন্নমত প্রকাশ করতেও বিদ্বেষের প্রয়োজন নেই।

১৯৯৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তসলিমা বলেন, সেই সময় রাতের অন্ধকারে তাঁর জন্য স্বদেশের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর একের পর এক সরকার এলেও সেই দরজা আর খোলেনি।

কলকাতার সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য, গান ও সংস্কৃতির মাধ্যমে শহরটির সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বাংলাদেশ ছাড়ার পর কলকাতায় তিনি আশ্রয় পেলেও ২০০৭ সালের ২২ নভেম্বর তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সিদ্ধান্তে তাঁকে শহরটি ছেড়ে যেতে হয়।

তসলিমার অভিযোগ, তিনি কোনো অপরাধ করেননি, কোনো আদালতও তাঁকে নির্বাসনের নির্দেশ দেয়নি। মৌলবাদীদের হুমকির কারণেই তাঁকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল।

বক্তব্যের শেষ দিকে সব ধরনের ধর্মীয় মৌলবাদের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, কোনো ধর্ম বা মতাদর্শই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশেই ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সংবিধান, মানবাধিকার ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে অভিন্ন দেওয়ানি আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পাহাড়ে সুবিধাবঞ্চিত ৩৯৭  শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাল চক-স্লেট

পাহাড়ে সুবিধাবঞ্চিত ৩৯৭ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছাল চক-স্লেট

যুক্তরাষ্ট্রে রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলা, নিহত একাধিক

যুক্তরাষ্ট্রে রেস্তোরাঁয় বন্দুক হামলা, নিহত একাধিক

দুর্গারূপে ছোটপর্দায় আসছেন ইধিকা পাল

দুর্গারূপে ছোটপর্দায় আসছেন ইধিকা পাল

রাশিয়ায় ক্যাফের কাছে বিস্ফোরণে নিহত ৩

রাশিয়ায় ক্যাফের কাছে বিস্ফোরণে নিহত ৩

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App