শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতে বাড়ছে অস্বস্তি!
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দিল্লিতে তার সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্বস্তি আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভারতের অবস্থান কতটা পরিবর্তিত হয়েছে।
দুই বছর আগে রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা ভারতে যান। সে সময় ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে সাময়িকভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ভারত একাধিকবার স্পষ্ট করেছে, ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তবে সম্প্রতি দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার (এফসিসি) এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল অংশগ্রহণ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, বিষয়টি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন : শেখ হাসিনার বক্তব্যে যে প্রতিক্রিয়া জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের দৃষ্টিতে এমন একটি আয়োজন ভারতের নীরব সম্মতি ছাড়া সম্ভব নয়। যদিও ভারত সরকার আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বাড়ছে চাপ
বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অমীমাংসিত বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় প্রভাব ফেলছে। পানি বণ্টন, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ইস্যুতেও পারস্পরিক আস্থার ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসছে।
দিল্লির অভ্যন্তরে বদলাচ্ছে অগ্রাধিকার?
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর প্রথমদিকে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশটির উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই যোগাযোগের ধরনে পরিবর্তন এসেছে বলে আলোচনা রয়েছে।
আরও পড়ুন : ভারতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ১২৭৯ মসজিদের মাইক অপসারণ
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, শেখ হাসিনাকে ঘিরে দিল্লির কৌশলগত অগ্রাধিকারে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তার অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন বাস্তবতা
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা এখন শুধু একটি রাজনৈতিক ইস্যু নন; বরং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অন্যতম সংবেদনশীল কূটনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছেন। তার প্রত্যর্পণ, ভারতে অবস্থান এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
তাদের মতে, পারস্পরিক আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান না হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ভূরাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতাও এ ইস্যুকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
