ভারতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ১২৭৯ মসজিদের মাইক অপসারণ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে গত দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে লাউডস্পিকার বা মাইক অপসারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে মসজিদ ও মন্দির উভয় ধরনের উপাসনালয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নির্ধারিত শব্দসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ২৭৯টি মসজিদ এবং ১৯৯টি মন্দিরকে তাদের সাউন্ড সিস্টেম অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই একইভাবে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে। উপাসনালয়গুলোর পরিচালনা কমিটির সঙ্গে আলোচনা করেই মাইক অপসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা) বিধিমালা, ২০০০ অনুযায়ী, সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করতে হলে পুলিশের পূর্বানুমতি নিতে হয়। পাশাপাশি সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার এবং শব্দের মাত্রা ৫০ থেকে ৭৫ ডেসিবেলের মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আরও পড়ুন : বাংলাদেশে যা চলছে, তা অমানবিক : দিলীপ ঘোষ
তবে অভিযানের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকটি মসজিদ পরিচালনা কমিটির অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ লিখিত নির্দেশনা ছাড়াই মৌখিকভাবে মাইক খুলে ফেলতে বলেছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কয়েকটি মন্দির কমিটির প্রতিনিধিরাও।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শব্দদূষণবিষয়ক বিধিমালা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, মসজিদ ও মন্দির উভয় ক্ষেত্রেই শব্দ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম উপাসনালয়ের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং বাইরে যেন শব্দ ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন : হুথিদের হামলায় ইয়েমেনে ৩০ সেনা নিহত
চলতি বছর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই রাজ্য সরকার সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আদালত নির্ধারিত শব্দদূষণবিষয়ক বিধি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে এ ইস্যুতে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয় তুলে ধরার কথা জানিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি অংশ।
