এবার দেওবন্দ মাদরাসার নিচে ‘শিবলিঙ্গ’ থাকার দাবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
ভারতের উত্তর প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের নিচে ‘শিবলিঙ্গ’ রয়েছে বলে দাবি করেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু রক্ষা দল। দাবির প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিতে গঙ্গার জল অর্পন করার বিতর্কিত পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
শুধু ভারতীয় উপমহাদেশে নয়, পুরো ইসলামী দুনিয়ায় বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই মাদ্রাসার ভূপৃষ্টে ‘শিবলিঙ্গ’ থাকার সাম্প্রতিক দাবি মাদ্রাসাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই।
সংগঠনটির উত্তরাখণ্ড রাজ্য সভাপতি ললিত শর্মা সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জানান, তাদের জাতীয় সভাপতি পিঙ্কি চৌধুরীর নেতৃত্বে সদস্যরা উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার থেকে গঙ্গার জল নিয়ে দেওবন্দ পর্যন্ত যাত্রা করবেন।
শর্মার দাবি, দেওবন্দ চত্বরে শিব মন্দির থাকার অভিযোগে তারা আগেই সাহারানপুর জেলা প্রশাসনের কাছে তদন্তের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা নিজেরাই সেখানে গিয়ে জল অর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সাহারানপুর পুলিশ। দেওবন্দ সার্কেল অফিসার অমিত কুমার সিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘কাউকে এলাকার আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অনুমতি দেওয়া হবে না। যে কেউ শান্তি ও পরিস্থিতি বিনষ্ট করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগেও ভারতে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও ব্যক্তিরা বেশ কিছু ঐতিহাসিক মসজিদ ও মাদ্রাসার নিচে বা পূর্বে প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব থাকার দাবি তুলেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও আদালতে গড়ানো প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় রয়েছে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ (যা পরবর্তীতে রামহন্দির হিসেবে রায় পায়), বারানসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ, মাথুরার শাহি ইদগাহ, এবং মধ্যপ্রদেশের ভোজশালা কমপ্লেক্স (কামাল মাওলা মসজিদ)।
উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে অবস্থিত দারুল উলুম দেওবন্দ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও প্রভাবশালী একটি ইসলামিক বিদ্যাপীঠ। ১৮৬৬ সালে মাওলানা মুহাম্মদ কাসিম নানুতাভী ও মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গোহীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক দেওবন্দি ইসলামী ধারার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
