ভারতীয় কূটনীতিক
তারেক রহমান ভারতে না এলে বন্ধ হতে পারে যোগাযোগের পথ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি। তাঁর মতে, তারেক রহমান ভারত সফর না করলে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যাভূষণ সোনি বলেন, তারেক রহমান তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি খোলামেলা এবং তিনি ভারতবিরোধী নন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সোনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়েছে। এর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন অন্যতম। দুই দেশ অনেক বিষয়ে একমত হলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছায়নি।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও ভারতের আরও সক্রিয় ভূমিকার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন এই সাবেক কূটনীতিক। তাঁর মতে, মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ থাকায় দেশটি চাইলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে।
তারেক রহমান সম্পর্কে সোনি বলেন, তিনি ভারতবিরোধী কোনো বক্তব্য দেননি। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক দিক। ভারতও এই সুযোগকে কাজে লাগাতে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সম্ভাব্য সফর নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে সোনি বলেন, তারেক রহমান ভারতে গেলে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তিনি সফর না করলে এই সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য যোগাযোগের পথ খোলা নাও থাকতে পারে।
এদিকে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, সফর নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে এখনো সফরের কোনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে দিল্লির উত্তরের অপেক্ষায় ঢাকা
সফরের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়টিও ভারতের কাছে উত্থাপন করেছে ঢাকা।
অন্যদিকে, নয়াদিল্লি জানিয়েছে, শেখ হাসিনার অংশ নেওয়া সাম্প্রতিক একটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আয়োজন করেছিল এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয়।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে ঢাকা-দিল্লির কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে সফরটি বাস্তবে কখন হবে এবং দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে কতটা অগ্রগতি হবে, তা এখনো নির্ভর করছে চলমান আলোচনার ওপর।
