অবৈধ ফোন বন্ধে নতুন তারিখ ঘোষণা বিটিআরসির
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অবৈধ ও চুরি যাওয়া মোবাইল হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করার সুবিধাসহ ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
এনইআইআর চালু হলে ওই সময়ের পর দেশে আনা অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে। বিটিআরসির জন্য হ্যান্ডসেট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা পুরোপুরি চালুর এটি তৃতীয় উদ্যোগ।
২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এনইআইআর চালু করা হয়েছিল। এটি সরকারের একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ, যার মাধ্যমে মোবাইল অপারেটররা হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর যাচাই করতে পারে। এর ফলে অবৈধ বা চুরি যাওয়া ফোন শনাক্ত ও বন্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়।
বিটিআরসির গত সপ্তাহের কমিশন সভায় এনইআইআর চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এনইআইআর দুই ধাপে চালু হবে। প্রথম ধাপ শুরু হবে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি। এ পর্যায়ে ব্যবস্থাটির মূল কাঠামোর প্রায় সব সুবিধা চালু থাকবে। তবে ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা প্রথম ধাপে থাকবে না।
ডি-রেজিস্ট্রেশন চালুর জন্য সরকারের অনুমোদন চাইবে বিটিআরসি। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে এ অনুমোদন চাওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এর জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
প্রথম ধাপে অবৈধভাবে তৈরি ও আমদানি করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা যাবে। পাশাপাশি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে দেশে আনা ফোনের বিক্রি ও ব্যবহারও বন্ধ করার সুযোগ থাকবে।
ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালু হলে এনইআইআরে নিবন্ধিত একটি হ্যান্ডসেটের মালিকানা এক ব্যবহারকারীর কাছ থেকে অন্য ব্যবহারকারীর কাছে হস্তান্তর করা যাবে। এতে প্রতিটি ফোনের সঙ্গে তার বর্তমান বা সর্বশেষ মালিকের তথ্য সংযুক্ত থাকবে। তবে এ সুবিধা দ্বিতীয় ধাপে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিটিআরসির সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা সম্ভব হবে না। এ ধরনের ফোন বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সক্রিয় হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআরে নিবন্ধিত হবে। আমদানিকারকেরাও তাদের আমদানি করা হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে পারবেন।
এ ছাড়া আমদানিকারকেরা আগে আমদানি করা কিন্তু এখনো বিক্রি না হওয়া হ্যান্ডসেট এবং গুদামে মজুত থাকা ফোনের তথ্যও এনইআইআরে দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
