১৫০ বাংলাদেশিকে আটকের বিষয়ে যা বলছে ভারত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে জম্মু-কাশ্মীর থেকে আটক অন্তত ১৫০ বাংলাদেশি নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।
সোমবার (৫ অক্টোবর) আটক বাংলাদেশিদের ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাগডোগরা বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিমানে করে তাদের সেখানে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের পর আগামী ৭ অক্টোবর তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার (পিটিআই) তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫০০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে থাকা ১৫০ বাংলাদেশিকে বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সূত্র জানায়, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করতে গত কয়েক দিন ধরে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা প্রায় ৫০০ জনকে আটক করে শ্রীনগরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি আটককেন্দ্রে নেওয়া হয়।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আটক ব্যক্তিদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কাশ্মীর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। তারা মূলত ময়লা সংগ্রহসহ ছোটখাটো বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ছিলেন।
সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মিয়ানমার থেকে আসা কিছু রোহিঙ্গা নাগরিকও রয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে ধাপে ধাপে অন্যদেরও বিভিন্ন দলের সঙ্গে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
এদিকে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি জম্মু-কাশ্মীর সফরের সময় জানতে পারে, ওই অঞ্চলে ৭ হাজার ৬৫৬ জন রোহিঙ্গা এবং ৫০৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। এর মধ্যে জম্মুতে ৬ হাজার ৭৩৭ জন রোহিঙ্গা ও ৪৬ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। বাকিরা কাশ্মীরে বসবাস করছেন।
কমিটিকে আরও জানানো হয়, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ১১৭টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জম্মুতে ১০১টি এবং কাশ্মীরে ১৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট জনমিতিক পরিবর্তন পর্যালোচনা এবং তা মোকাবিলায় করণীয় সুপারিশ করাই কমিটির মূল দায়িত্ব। এক বছরের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
গত ১৫ বছরে বিভিন্ন জেলা, শিল্পাঞ্চল ও সীমান্ত এলাকায় ধর্মীয় জনমিতিতে ‘দৃশ্যমান পরিবর্তন’ সম্পর্কে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের কাছে তথ্য চেয়েছে কমিটি।
গত দুই মাসে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পাঠানো চিঠিতে আগের বছরগুলোর পরিবর্তন বোঝাতে ‘টাইম-সিরিজ ডেটা’ বা কালানুক্রমিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারগুলোর করা জনমিতির প্রধান প্রবণতার মূল্যায়ন এবং ২০১১ সাল থেকে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় গঠনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
