আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় আর মাত্র ৭ দিন, করণীয় কী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
ফাইল ছবি
২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র সাত দিন বাকি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণত প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় থাকলেও এবার তিন দফায় বাড়িয়ে শেষ সময় ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনবিআর জানিয়েছে, এবার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে করদাতারা ঘরে বসেই এনবিআরের নির্দিষ্ট পোর্টালে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। সাপ্তাহিক বা সরকারি ছুটির দিনেও এই অনলাইন সিস্টেম চালু থাকছে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। করযোগ্য আয় থাকলে তাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন নিয়েছেন।
যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেবেন
ই-রিটার্ন জমা দিতে করদাতাদের এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আগে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে সহজেই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।
অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কোনও কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই হয়। একই সঙ্গে অনলাইনেই কর পরিশোধ করা যায়। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।
শেষ সময়ে তাড়াহুড়া নয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে করদাতাকে জরিমানাসহ আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে হতে পারে। তাই সময় থাকতেই রিটার্ন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
রিটার্ন দেওয়ার আগে করণীয়
রিটার্ন জমার আগে করদাতাদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে— আগে থেকেই আয়–ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে তথ্য যাচাই করা, জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য আবার পরীক্ষা করা, প্রয়োজনে কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া।
কর প্রশাসন বলছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা ঝামেলা এড়াতে পারবেন এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধাও পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবেন।
