স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে খোলাবাজারে নিত্যপণ্য বিক্রি করবে টিসিবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রেখে ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে খোলাবাজারে নির্বাচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির পরীক্ষামূলক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ জানিয়েছেন, বিদেশ থেকে তুলনামূলক কম দামে সংগ্রহ করা পণ্য কোনো সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই প্রচলিত বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হবে।
তিনি বলেন, এটি টিসিবির একটি নতুন উদ্যোগ, যার ধারণা বর্তমান সরকারের চিন্তা থেকে এসেছে।
প্রাথমিকভাবে ভোজ্যতেল দিয়ে কার্যক্রমটি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের প্রথম চালান সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ
টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, কম দামে সংগ্রহ করা সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে ডাল ও চিনিসহ অন্যান্য পণ্যও খোলাবাজারে বিক্রি করা হবে।
তার ভাষ্য, এ কার্যক্রম শুধু স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। খোলাবাজার থেকে যে কোনো ভোক্তা এসব পণ্য কিনতে পারবেন।
প্রাথমিকভাবে তিন থেকে চার মাস পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রমটি চালিয়ে বাজারের প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করা হবে। প্রথম চালানকে ‘পাইলট লট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাজার থেকে সংগ্রহ করা পণ্য কার্যকরভাবে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে কি না, তার ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
ফয়সল আজাদ বলেন, পণ্য সংগ্রহের পর তা বিক্রি করা সম্ভব না হলে কার্যক্রমটি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। তবে বিক্রিতে সাড়া পাওয়া গেলে উদ্যোগটি আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।
থাকবে না সরকারি ভর্তুকি
টিসিবি চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেছেন, প্রস্তাবিত খোলাবাজারে পণ্য বিক্রিতে সরকার কোনো ভর্তুকি দেবে না। বরং প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য কিনে তুলনামূলক কম মুনাফায় বিক্রি করবে টিসিবি।
তিনি বলেন, কম দামে পণ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হলে সেই সুবিধা ভোক্তাদের দেওয়া হবে। ফলে প্রচলিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার হুমকি ট্রাম্পের
পণ্য ও সংগ্রহমূল্যের ওপর নির্ভর করে বাজারদরের চেয়ে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১০ থেকে ১২ টাকা কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এই উদ্যোগকে মৌসুমভিত্তিক কোনো কর্মসূচি হিসেবে দেখছে না টিসিবি। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের ফলাফল পর্যালোচনা করে সফল হলে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শুরু হচ্ছে ভোজ্যতেল দিয়ে
বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম তুলনামূলক বেশি এবং চাহিদাও রয়েছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে এ পণ্য দিয়েই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে বলে জানান টিসিবি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, তেলের দাম বেশি থাকায় কম দামে সংগ্রহ করে ভোক্তাদের কাছে কম দামে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে কম দামে সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে কম দামে বিক্রিও সম্ভব হবে না।
আরও পড়ুন: ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের সামনে আরও এক ১৫ আগস্ট
পরবর্তী সময়ে চিনি, ডালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রতিযোগিতামূলক দামে সংগ্রহ করা গেলে সেগুলোও খোলাবাজারে বিক্রি করা হবে।
তবে সব সময় সব পণ্যের বাজারে হস্তক্ষেপ করবে না টিসিবি। কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের সরবরাহ বা দামে চাপ তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি বাজারে আনার কথা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।
স্মার্ট কার্ডের কর্মসূচির বাইরে নতুন কার্যক্রম
খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির এই উদ্যোগ টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিতরণের বিকল্প নয়। এটি ওই কর্মসূচির পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি কার্যক্রম হিসেবে পরিচালিত হবে।
টিসিবি চেয়ারম্যান বলেন, স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের ভর্তুকির কর্মসূচি আলাদা থাকবে। নতুন উদ্যোগে ভর্তুকি না থাকলেও বাজারদরের তুলনায় কম দামে পণ্য বিক্রি করা হবে।
তার ভাষ্য, টিসিবির বিদ্যমান দায়িত্বের আওতায়ই নতুন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ জন্য আলাদা কোনো নামও দেওয়া হয়নি; এটি সংস্থাটির স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ।
পরীক্ষামূলক উদ্যোগের জন্য আপাতত অতিরিক্ত বাজেটের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান তিনি। টিসিবির চলতি বাজেটেই এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সফল হলে বাড়বে পণ্যের পরিসর
টিসিবি চেয়ারম্যান আশা করছেন, পাইলট কার্যক্রম সফল হলে পরবর্তী সময়ে আরও বেশি পণ্য এ ব্যবস্থার আওতায় আনা যাবে।
তার মতে, প্রতিযোগিতামূলক দামে টিসিবি খোলাবাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারলে সামগ্রিক বাজারদর কমাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি বলেন, টিসিবি বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই দাম কমার চাপ তৈরি হবে। মূলত নির্বাচিত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। প্রাথমিকভাবে সীমিত পরিসরে কার্যক্রমটি পরীক্ষা করে সফলতার ভিত্তিতে পরে তা বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
