দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট
তলানিতে নামছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পাল্টা জবাবে ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের ছোড়া ড্রোন ও হাইপারসনিক মিসাইল মোকাবিলায় বিপুল পরিমাণ 'টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র' ব্যবহার করছে মার্কিন বাহিনী। মাত্র চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টিরও বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা দেশটির নিজস্ব অস্ত্রভাণ্ডারে টান ফেলেছে। এই বিপুল পরিমাণ ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত অত্যন্ত শক্তিশালী 'টমাহক' ক্ষেপণাস্ত্র মূলত নৌযান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এবং এটি এক হাজার মাইলেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে জিপিএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা কারখানাগুলোতে বছরে মাত্র কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদিত হওয়ায় এর বৈশ্বিক সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে।
পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে। এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে তারা ‘উইনচেস্টার’-এর কাছাকাছি—যা সামরিক পরিভাষায় গোলাবারুদ শেষ হওয়ার অবস্থা বোঝায়।
প্রতিটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের নির্মাণব্যয় বর্তমানে প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন ডলার এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় দুই বছর। এই দীর্ঘ উৎপাদন সময় এবং উচ্চমূল্যের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেছে পেন্টাগন। মূলত মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদন গতিশীল করাই এখন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, মার্কিন কংগ্রেসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাডের মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি থাড রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেগুলো পুনঃস্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।’
এর ফলে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইরান ইতোমধ্যেই ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে। এখন দেশটির লক্ষ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডার উৎপাদনকারী স্থাপনাগুলোকে ধ্বংস করা।’
