অমিত শাহ
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ বন্ধ হবে
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
ছবি: ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা হবে এবং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।
শনিবার (২৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী এক সাংবাদিক বৈঠকে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি এ কথা বলেন।
অমিত শাহ বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যারা আসে, তারাও বাংলা ভাষায় কথা বলে। তবে এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের সংকল্প, অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করে দেশছাড়া করা।’
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ‘গত ১৫ বছরে দুর্নীতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক হিংসা এবং শিল্পের অবনতি বেড়েছে। পাশাপাশি অনুপ্রবেশও বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।’
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন, ‘এত অনুপ্রবেশ হচ্ছে, রাজ্য সরকার কি ঘুমোচ্ছে?’
সীমান্ত সুরক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এখনও প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত রয়েছে।’
তার দাবি, সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমি দিচ্ছে না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ১৫ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ভূমিকাও উল্লেখ করেন শাহ। তার মতে, সীমান্তে কাঁটাতার থাকলেই বিএসএফ কার্যকরভাবে অনুপ্রবেশ রুখতে পারবে।
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের ভোট শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। তার দাবি, আসামে বিজেপি সরকার গঠনের পর অনুপ্রবেশ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ এখন অনুপ্রবেশের প্রধান পথ হয়ে উঠেছে।’
মুসলিম সংখ্যালঘু তোষণ ও সংরক্ষণ নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শাহ। ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ হওয়া উচিত নয় বলেও মত দেন তিনি। পাশাপাশি শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা, জাল নোট ও পাচার ইস্যুতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অমিত শাহ।
নারী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে নারীদের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
এদিন বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারও প্রকাশ করেন শাহ। সেখানে রাজ্যের নিরাপত্তা জোরদার, দুর্নীতি দমন এবং সুশাসন ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
