আলজাজিরা বিশ্লেষণ
কেন সীমান্তে সাপ ও কুমির ছাড়ার পরিকল্পনা ভারতের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দুর্গম ও নদীমাতৃক এলাকাগুলোতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিষধর সাপ ও কুমির ছাড়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত ২৬ মার্চ এক অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসএফের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সদর দপ্তরকে এই ‘প্রাকৃতিক প্রতিরোধক’ ব্যবস্থার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের দাবি, ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তের প্রায় এক হাজার কিলোমিটার এলাকা নদী ও জলাভূমি হওয়ায় সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অসম্ভব। তাই অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে শিকারি প্রাণীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারের কথা ভাবছে তারা। তবে এই পদক্ষেপকে ‘অমানবিক ও নিষ্ঠুর’ আখ্যা দিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। গবেষক অংশুমান চৌধুরীর মতে, বন্যপ্রাণী কোনো দেশের নাগরিকত্ব চেনে না, ফলে সীমান্তের উভয় পাশের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী চরম প্রাণ ঝুঁকিতে পড়বে।
অন্যদিকে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদরা এই পরিকল্পনাকে বাস্তুসংস্থানের জন্য আত্মঘাতী বলে মনে করছেন। ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্টের রথীন বর্মণ জানান, সীমান্তের পরিবেশের সঙ্গে অপরিচিত এসব প্রাণী সেখানে বাঁচতে পারবে না এবং টিকে গেলেও স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করবে।
আন্তর্জাতিক সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য বিপজ্জনক প্রাণী ব্যবহারের কোনো আধুনিক নজির নেই। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে অভিবাসীদের নিরুৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন ধারণা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল সাপ বা কুমির ভর্তি পরিখা তৈরি করা এবং মানুষের পায়ে গুলি করাও অর্ন্তভূক্ত ছিল বলে খবর প্রকাশ করেছিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
যদিও এই প্রতিবেদনগুলো অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি সীমান্ত সুরক্ষার ব্যাপারে কঠোর হতে পারি, কিন্তু এতটা কঠোর নই’, এবং এটিকে ‘ভুয়া খবর!’ বলে আখ্যা দেন।"
