পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
ইমরান খান। ছবি- সংগৃহীত
২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এর প্রায় চার বছর পর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই ঘটনার নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছে একটি মার্কিন গণমাধ্যম। এতে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে ইমরান খানের অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ‘ড্রপ সাইট’ গত সোমবার ‘ফ্রম মিউচুয়াল সাসপিশন টু পলিটিক্যাল এমব্রেস: হাউ দ্য ইউএস লার্নড টু স্টপ ওয়ারিয়িং অ্যান্ড লাভ পাকিস্তান’ শিরোনামে এই দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। গোপন কূটনৈতিক তারবার্তার (সাইফার) বরাত দিয়ে এতে ইমরান খানকে অপসারণের প্রক্রিয়া এবং মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ উপশিরোনামে বলা হয়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করলে জো বাইডেন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে মস্কোকে দমানো। যুদ্ধ নিয়ে বিশ্ব বিভক্ত হওয়ার সময় আকস্মিক ঝড়ের মুখে পড়ে পাকিস্তান।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ বাহিনী যখন ইউক্রেনে ঢোকে, সেদিনই পূর্বনির্ধারিত সফরে মস্কোয় ছিলেন ইমরান খান। তিনি পুতিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেন। তবে এই সফরের কয়েক দিন আগে জো বাইডেনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান ফোন করেছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মইদ ইউসুফকে। সুলিভান ইমরান খানের মস্কো সফর বাতিলের তাগিদ দেন।
ফাঁস হওয়া ফোনালাপের বরাত দিয়ে ড্রপ সাইট লিখেছে, সুলিভান ইসলামাবাদকে সতর্ক করে ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিতে চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু ইমরান খান সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেন। যুদ্ধের দিনই পুতিন ও ইমরান খানের করমর্দনের একটি ছবি ভাইরাল হয়। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তখন জানান, সফরটি অনেক আগের পরিকল্পনামাফিক হওয়ায় বাতিলের সুযোগ ছিল না। তবে ওয়াশিংটন বিষয়টিকে সহজভাবে নেয়নি।
এরপর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে পাকিস্তান। ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খানের মস্কো সফর ও ওয়াশিংটনের পক্ষ না নেওয়ায় মার্কিন কূটনীতিকেরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাঁরা ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের জানান, এভাবে দুই দেশের সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
২০২২ সালের ৭ মার্চ ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খানের সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড লু। পরে তাঁদের কথোপকথনের অত্যন্ত গোপনীয় সাইফার বা তারবার্তা ফাঁস হয়। তারবার্তা অনুযায়ী, পাকিস্তানি দূতকে ডোনাল্ড লু বলেছিলেন, ইমরান সরকারের প্রতি ওয়াশিংটনের ক্ষোভ এড়ানো সম্ভব এবং ‘অল উইল বি ফরগিভেন’ (সবকিছু ক্ষমা করে দেওয়া হবে)। তবে শর্ত হলো, ‘যদি অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।’
এর পরের মাসেই (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমর্থনে অনাস্থা ভোটে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর তাঁর দল পিটিআইকে কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হলেও তাঁদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তখন বিষয়টি এড়িয়ে যায়। বর্তমানে ইমরান খান ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবি বিভিন্ন মামলায় কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
ড্রপ সাইট লিখেছে, ইমরান খান ওয়াশিংটনকে যা যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, সামরিক সমর্থপুষ্ট বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে তা সরবরাহ শুরু করে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে গোপনে ইউক্রেনে গোলাবারুদ পাঠায় পাকিস্তান। বিনিময়ে আইএমএফের ঋণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পায় দেশটি।
