নিজের প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে গেলেন মিয়ানমার প্রেসিডেন্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম বিদেশ সফরে গেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং। পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ শনিবার তিনি ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দেশটির রাজধানী নেইপিদো থেকে আজ সকালে তার বিমান ভারতের উদ্দেশে ওড়ে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে দুই দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
ভারতের মিজোরাম, মণিপুর, অরুণাচল ও নাগাল্যান্ড—এই চার রাজ্যের সঙ্গে মিয়ানমারের ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। একসময় ভারতের সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বেশ ভালো ছিল। তবে ২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখল করলে সেই সম্পর্কে স্থবিরতা নেমে আসে। ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং।
ক্ষমতা দখলের প্রায় পাঁচ বছর পর, গত বছরের (২০২৫ সালের) ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করে সামরিক জান্তা। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হন মিন অং হ্লেইং। এরপর গত ১০ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন।
মিয়ানমারবিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কার্যত ‘একঘরে’ হয়ে আছে মিয়ানমার। প্রতিবেশী ভারতের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের সঙ্গেও দেশটির সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।
এর প্রধান কারণ মিয়ানমারে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের ওপর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন। সু চিসহ এনএলডির হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সংসদ সদস্য গত পাঁচ বছর ধরে কারাবন্দী। তাঁদের মুক্তির দাবিতে শুরু হওয়া শান্তিপূর্ণ আন্দোলন নিষ্ঠুরভাবে দমন করেছে সেনাবাহিনী। গত পাঁচ বছরে সেনাসদস্যদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক হাজার গণতন্ত্রপন্থী মানুষ।
সামরিক বাহিনীর এই সহিংসতার কারণে আসিয়ানের বৈঠকগুলোতে মিয়ানমারের জান্তা কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর জারি করা নিষেধাজ্ঞা এখনো বলবৎ আছে।
আন্তর্জাতিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপের মিয়ানমারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ রিচার্ড হোর্সি রয়টার্সকে বলেন,‘সামরিক উর্দি ছেড়ে বেসামরিক পোশাক পরার পর থেকে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লেইং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এই ভারত সফরের মাধ্যমে তিনি মূলত দুটি উদ্দেশ্য পূরণ করতে চান।
প্রথমত, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা এবং দ্বিতীয়ত, এই মিত্রতাকে কাজে লাগিয়ে আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। ভারত সফর সফল হলে আসিয়ান জোটের দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব ঘোচানোর কাজটি তাঁর জন্য সহজ হবে।’
