কবে খুলবে হরমুজ প্রণালি, যা জানা গেল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ছবি- সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে একটি শান্তিচুক্তির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তি সই সম্পন্ন হওয়ার পরই বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান ট্রাম্প। তবে এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চুক্তি ঘোষণার পরপরই প্রণালিটি খুলে দেওয়া হতে পারে। পরবর্তীতে তিনি স্পষ্ট করেন যে, চুক্তি সইয়ের পরই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ১৪ দফা একটি খসড়া চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। এতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি। সাধারণত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এর অবস্থান ও কার্যকারিতা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে বলেন, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে। অর্থাৎ এই রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে কোনো ধরনের টোল দিতে হবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে ভূমিকা প্রসারিত করার ইঙ্গিত দেন।
চুক্তি নিয়ে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, এই “মহান চুক্তি” পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে। এর আগে সংঘাতের কারণে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ে। পরবর্তীতে কূটনৈতিক উদ্যোগে দুই পক্ষ শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে সম্মত হয়, যার ফলে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবারও বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত হবে।
