কিউবাজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি সংকটের কারণে আবারও দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়েছে কিউবা। এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো সারা দেশে লোডশেডিংয়ের ঘটনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার প্রভাবেই দেশটির বিদ্যুৎ সংকট আরো তীব্র হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে বিপর্যয় দেখা দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই পুরো দ্বীপ অন্ধকারে ডুবে যায়।
রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা ইউনিয়ন ইলেক্ট্রিকা দে কিউবা জানায়, শুক্রবার বিকেলেই বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। তবে সরকার এ ঘটনার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি।
এর আগে চলতি সপ্তাহের সোমবারও একই ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল। ফলে চলতি বছরের শুরু থেকে কিউবায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সংখ্যা বেড়ে চারটিতে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসেই দুবার জাতীয় গ্রিড ভেঙে পড়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবার পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামো এ সংকটের অন্যতম কারণ। দেশটির অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন হয়নি।
আরো পড়ুন : ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ৩ দেশ উসকানি দিয়েছে
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার বিদেশি তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন।
১৯৬০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে কিউবা। যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে মাত্র ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দেশটি এখনও সেই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বহন করছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ আরো বাড়ায়। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র আটক করার পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা আর কিউবায় তেল বা অর্থ পাঠাতে পারবে না। এরপর ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
পরে ২৯ জানুয়ারি ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে কিউবায় জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এরপর থেকে মার্চ মাসে কেবল একটি রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার কিউবায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত কিউবা নিজস্ব চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ তেল উৎপাদন করতে পেরেছে। বাকি অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট কিউবার সাধারণ মানুষের জীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসেবায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০২২ সালের হিসাবে কিউবার মোট জ্বালানি ব্যবহারের মাত্র ১৮ শতাংশ এসেছে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।
