রিলসের নেশা বাড়াচ্ছে শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
স্মার্টফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিলস বা শর্ট ভিডিও দেখার অভ্যাস এখন শুধু তরুণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রবীণদের মধ্যেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একটুখানি অবসর পেলেই অনেকে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের রিলসে ডুবে থাকছেন। আবার কেউ সময় কাটাচ্ছেন অনলাইন লুডো খেলায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, স্মার্টফোন ব্যবহারকে সব সময় নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। দূরে থাকা আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলা কিংবা অনলাইনে লুডোর মতো সামাজিক খেলায় অংশ নেওয়া প্রবীণদের মানসিকভাবে সক্রিয় রাখতে এবং একাকীত্ব কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সমস্যা শুরু হয় যখন ফোন ব্যবহারই দৈনন্দিন জীবনের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা রিলস বা শর্ট ভিডিও স্ক্রল করার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন মনোবিদ ও চিকিৎসকরা।
আরো পড়ুন : বন্যায় নিরাপদ থাকতে যা করবেন
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, অতিরিক্ত রিলস দেখার কারণে অনেকেই নিয়মিত হাঁটাচলা কমিয়ে দিচ্ছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং রাত জেগে ফোন ব্যবহার করছেন। এতে শারীরিক ও মানসিক—দুই ধরনের সমস্যাই দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে শারীরিক সক্রিয়তা কমে যায়। এর ফলে স্থূলতা, হাড় ও জয়েন্টের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
এ ছাড়া স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের ছোট ছোট ভিডিও নিয়মিত দেখার কারণে ধীরে ধীরে দীর্ঘ সময় কোনো বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় রিলস দেখার পর সাময়িক আনন্দ মিললেও অনেকের মধ্যে একাকীত্ব, মানসিক শূন্যতা এবং খিটখিটে মেজাজের মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রযুক্তির ব্যবহার প্রয়োজনীয় হলেও তা যেন আসক্তিতে পরিণত না হয়। প্রতিদিন কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থেকে বই পড়া, গাছপালার পরিচর্যা করা কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর ও মন—দুটোই সুস্থ রাখা সম্ভব।
