×

আন্তর্জাতিক

২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপ ছিল : দাবি ট্রাম্পের

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপ ছিল : দাবি ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা হ্যাক করা হয়েছিল এবং ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চীন হস্তক্ষেপ করেছিল বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ দাবির পক্ষে কিছু স্পর্শকাতর গোয়েন্দা নথি অবমুক্ত (ডিক্লাসিফাই) করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

তবে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত ৯টায় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বিশেষ ভাষণে ট্রাম্প এসব গুরুতর অভিযোগের সমর্থনে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা উদাহরণ উপস্থাপন করেননি। বিষয়টি নিয়ে রয়টার্স, এপি ও দ্য গার্ডিয়ান প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোয়েন্দা তথ্য জনসমক্ষে আনা হবে। তার দাবি, এসব নথি প্রকাশ পেলে বোঝা যাবে যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা হ্যাকিং, অপব্যবহার এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

তিনি অভিযোগ করেন, বহু বছর ধরে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, চীন অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের বিপুল পরিমাণ সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেছে। তার দাবি, এসব তথ্যের মধ্যে ভোটারদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, রাজনৈতিক দলীয় পরিচয়, ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যসহ আরও বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে, যা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে ভোটারদের মৌলিক তথ্য সরকারি নথি হিসেবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ডিক্লাসিফাই করা নথিতে ২০২০ সালের নির্বাচনে চীনের প্রভাব বিস্তারের সুস্পষ্ট প্রচেষ্টার তথ্য রয়েছে। তার অভিযোগ, প্রশাসনের একটি অংশ, যাদের তিনি ‘ডিপ স্টেট’ হিসেবে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে এসব তথ্যকে গুরুত্বহীন হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্য প্রেসিডেন্ট ও জনগণের কাছ থেকে প্রকৃত তথ্য গোপন রেখেছেন।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, চীন ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব বিস্তারের কোনো চেষ্টা করেনি। যদিও একটি সংখ্যালঘু মতামতে উল্লেখ করা হয়েছিল, বেইজিং ট্রাম্পবিরোধী জনমত তৈরির জন্য কিছু পরোক্ষ কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।

ভাষণে ট্রাম্প আরো অভিযোগ করেন, চীনা সরকার এমন মার্কিন সাংবাদিকদের শনাক্ত করার চেষ্টা করেছিল, যারা তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। পরে তাদের আরো বেশি নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশে অর্থের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে এ অভিযোগের পক্ষেও তিনি কোনো নির্দিষ্ট সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তিনি শুধু বলেন, চীন চেয়েছিল পরবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পরাজিত হোন।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত ভোটিং মেশিন হ্যাক করা সম্ভব বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত রাশিয়া, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রবহির্ভূত গোষ্ঠীর মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশের সক্ষমতা রয়েছে। তার দাবি, সরকার দীর্ঘদিন ধরেই জানত যে ভোটিং মেশিনগুলো সাইবার হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ভাষণের শেষদিকে ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি পুনরায় দাবি করেন, ভোটার তালিকায় নাগরিক নন এমন ব্যক্তি এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ অতীতেও একাধিকবার খণ্ডিত হয়েছে।

তার মতে, প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্যগুলো এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নানা দুর্বলতায় আক্রান্ত।

অন্যদিকে ট্রাম্পের এ ভাষণের পর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ ও আইনপ্রণেতাদের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ডিক্লাসিফাই করা গোয়েন্দা তথ্য রাজনৈতিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা বা অপব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কামরাঙ্গীরচরে জুতার কারখানায় আগুন

কামরাঙ্গীরচরে জুতার কারখানায় আগুন

আবু সাঈদের মৃত্যুতে গড়া জুলাই ঐক্য কেন টিকলো না?

আবু সাঈদের মৃত্যুতে গড়া জুলাই ঐক্য কেন টিকলো না?

‘এক দিন না এক দিন তোমাদের বিচ্ছেদ হবে’

‘এক দিন না এক দিন তোমাদের বিচ্ছেদ হবে’

উত্তরাঞ্চলে ফের বন্যার শঙ্কা, ঝুঁকিতে রংপুরের পাঁচ জেলা

উত্তরাঞ্চলে ফের বন্যার শঙ্কা, ঝুঁকিতে রংপুরের পাঁচ জেলা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App