মালয়েশিয়ায় যৌন ব্যবসার অভিযোগে বাংলাদেশিসহ আটক ২৬
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বিদেশি নারীদের জড়িত করে কথিত যৌন ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে বাংলাদেশি-থাই দম্পতিসহ ২৬ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ।
বুধবার রাতে কুচাই লামা ও জালান গেলুগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহের গোয়েন্দা নজরদারির পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান বৃহস্পতিবার জানান, আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি পুরুষ, একজন থাই নারী, একজন মালয়েশীয় পুরুষ, তিনজন মিয়ানমারের পুরুষ, তিনজন বাংলাদেশি নারী, ১৪ জন ইন্দোনেশীয় নারী, দুইজন ভিয়েতনামী নারী ও একজন মিয়ানমারের নারী রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক বিদেশিদের কয়েকজনের কাছে মালয়েশিয়ায় অবস্থানের বৈধ ভ্রমণ নথি বা পাস ছিল না। অভিযানে চারটি বাংলাদেশি, একটি থাই ও একটি ইন্দোনেশীয় পাসপোর্টসহ বেশ কিছু মোবাইল ফোন, কনডম এবং ১ হাজার ২১৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুচাই লামা এলাকার একটি আবাসিক ও একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থাপনায় বিদেশি নারীদের দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান হাইকমিশনে বুলডোজার চালাল ভারত
কর্তৃপক্ষের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিশেষ করে ক্লাং ভ্যালিতে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গ্রাহক সংগ্রহ করা হতো। কথিত চক্রের মূল হোতারা কর্মীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি তাদের পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দিতেন।
অভিযানে স্থানীয় এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। তিনি বাণিজ্যিক স্থাপনাটিতে ‘ক্যাপ্টেন’ বা পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন বলে ধারণা করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, আবাসিক স্থাপনায় ৬০ মিনিটের জন্য গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০০ রিঙ্গিত এবং বাণিজ্যিক স্থাপনায় ৯০ মিনিটের জন্য ২৬০ থেকে ৪০০ রিঙ্গিত নেওয়া হতো। চক্রটি প্রায় দুই মাস ধরে এ কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর বিভিন্ন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাদের ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
