ফের আটক হলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের সামনে থেকে বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী এবং তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রাকে আবারও আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত আটটার দিকে তাঁদের আটক করা হয়।
এর আগে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের অভিমুখে মিছিল ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন কংগ্রেসসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরুর প্রায় নয় ঘণ্টা পর রাতে পুলিশি কড়াকড়ির মধ্যে রাহুল গান্ধীসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়।
পুলিশ তাঁদের একটি বাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ভিজ্যুয়াল ও গণমাধ্যমের দৃশ্যে দেখা যায়, কংগ্রেস কর্মীরা পুলিশকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ সদস্যরা রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। কংগ্রেস সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানায়, আটক ভাইবোনসহ অন্য নেতাদের উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
আন্দোলনের পটভূমি ও আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান
আকাশবাণী ভবন চত্বরে আয়োজিত এই অবস্থান কর্মসূচিটি ছিল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পূর্বঘোষিত প্রতিবাদের অংশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেওয়া কথিত ‘একতরফা’ সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR)-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিপুলসংখ্যক বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও দলীয় কর্মী অংশ নেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার এটিই গান্ধী ভাই-বোনের প্রথম আটক হওয়ার ঘটনা ছিল না। এর আগে দুপুরের দিকেও তাঁদের সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য একটি পুলিশ বাসে তুলে নেওয়া হয়েছিল। সে সময় অবশ্য তাঁরা বাস থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
সে সময় আকাশবাণী ভবনের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় এখান থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে, কিন্তু আমাদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সমস্যাটা কোথায়, তা আমি বুঝতে পারছি না। নির্বাচন কমিশনের মূল কাজ হলো সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা। অথচ অন্তত ৩০০ জন সাংসদ জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তিনি ভয় পাচ্ছেন। দেশে আসলে কী চলছে, তা আমার বোধগম্য নয়। দেশের জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই যদি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ না পান, তবে এই গণতন্ত্রের অর্থ কী?”
আরও পড়ুন: ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার হতে পারে তেলের দাম
কংগ্রেসের শর্ত ও নির্বাচন কমিশনের অনড় অবস্থান
সন্ধ্যায় গান্ধী ভাই-বোনকে পুনরায় আটক করার ঠিক আগমুহূর্তে কংগ্রেস সূত্র জানিয়েছিল যে, সিইসি ও অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
ওই সূত্র মতে, নির্বাচন কমিশনের কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি এসে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে তাদের সঙ্গে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিতেন, তবে রাহুল গান্ধী চলমান অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করার কথা বিবেচনা করতেন। তবে তাঁদের প্রধান শর্ত ছিল, সাক্ষাৎপ্রার্থী ৩০০ জন সাংসদই একসঙ্গে ওই বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কিন্তু সেই আলোচনার সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুলিশ কঠোর অবস্থানে যায় এবং তাঁদের আটক করে।
সূত্র: এনডিটিভি।
