সরকার পতন আন্দোলনের হুমকি জামায়াত আমিরের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাবি মেনে না নিলে সাত দফা এক দফায় রূপ নেবে এবং সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর যশোরের মুড়লীর মোড়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখী এ লংমার্চের অংশ হিসেবে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা গণভোটের গণরায় অস্বীকার করেছেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। এর মাশুল আপনাদের দিতে হবে। আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। জনগণ রাজপথে নামলে দাবি আদায় করেই ছাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে আজকের সাত দফা শেষ পর্যন্ত এক দফায় রূপান্তরিত হবে। সরকারকে আমরা সেইটুকু সময় দিতে চাই। আমরা সংসদে বসেই গণভোটের গণরায় ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্নসহ সাত দফা দাবির সমাধান করতে চাই। কিন্তু তা না হলে আবারও দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণবিপ্লবের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনের ডাক দিতে আমাদের বাধ্য করবেন না।’
সরকারকে দ্রুত সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘এক দফার ওজন কেউ সহ্য করতে পারেনি, আপনারাও পারবেন না।’ তিনি বলেন, ‘এখনই মেনে নিন, ঘোষণা দিন।’
বক্তব্যে সরকারি কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগও তোলেন জামায়াত আমির। উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি জানতে চান, তাঁদের মধ্যে কারা কারা কার্ড পেয়েছেন। এ সময় কারও হাত দেখতে না পেয়ে তিনি বলেন, ‘এই কার্ড কারও বাবার তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে না। তাহলে এখানে কেউই পাননি কেন? এই কার্ড সব পুকুরপাড়ে চলে গেছে।’
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, জাতিকে নিয়ে তামাশা করা হচ্ছে। গণভোটের গণরায় নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘যা মেনে নেওয়া হবে না।’
তিনি বলেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমেছে। এ দাবি কোনো একক রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির নয়; বরং সাধারণ মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি নিয়েও সতর্ক করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের রাস্তায় যারা হাঁটবে, তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।’
জনগণের ওপর জুলুম এবং অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আর কোনো ধরনের নিপীড়নমূলক শাসনব্যবস্থা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।
যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, এলডিপির বিল্লাল হোসেন নিয়াজী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চান এবং মুফতি শরাফত হোসেনসহ অন্যরা।
এর আগে দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হয়। বেলা ৩টার মধ্যেই সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
