কোরবানির জন্য কুষ্টিয়ায় প্রস্তুত দুই লক্ষাধিক পশু
নুর আলম দুলাল, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার খামার ও গ্রামীণ পর্যায়ে মোটাতাজা করা হয়েছে দুই লক্ষাধিক গবাদিপশু, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় বড়-ছোট মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার গরুর খামার রয়েছে। দেশীয় গরুর চাহিদা বাড়ায় জেলার খামার ও বাড়িঘরে মোটাতাজা করা হয়েছে প্রায় দুই লাখ পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে প্রায় এক লাখ এবং ছাগল ও ভেড়া রয়েছে আরও এক লাখ।
ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে এসব পশু সরবরাহের প্রস্তুতি চলছে। কোরবানির হাটে কুষ্টিয়ার গরুর আলাদা চাহিদা থাকায় খামারিরা শেষ সময়ের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার খামারি মোক্তার হোসেন জানান, কুষ্টিয়ার গরু ঢাকাসহ বড় শহরের বাজারে বেশ জনপ্রিয়। তবে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বেড়েছে। তিনি বলেন, বাড়তি দামে গরু বিক্রি করতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে, এমনকি পুঁজি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
আরেক খামারি দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে কুষ্টিয়ার গরু ক্রেতাদের কাছে বেশি পছন্দের। তিনি ঈদে বিদেশ থেকে গরু আমদানি না করার দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা লাভের আশায় গরু লালন-পালন করি, কিন্তু অনেক সময় ন্যায্য দাম পাই না। বিদেশি গরু এলে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে অবৈধ পথে গরু প্রবেশ ঠেকাতে সরকারের নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আল মামুন হাসান মন্ডল জানান, খামারিদের ক্ষতিকর বা ভেজাল খাদ্য ব্যবহার না করে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন ঈদে খামারিরা তাদের পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন।
