×

খুলনা

‘মাটি চাপা দেওয়ার পর খুব কষ্টে আছি’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

‘মাটি চাপা দেওয়ার পর খুব কষ্টে আছি’

ছবি : সংগৃহীত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা নদী খননের মাটি ফেলার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ঘরের পেছনে মাটি জমে টয়লেট, রান্নাঘর ও বসবাসের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা তপতি দাস বলেন, ঘরের পেছনে মাটি ফেলার পর থেকে তারা নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। টয়লেটের ট্যাংকি মাটিতে ভরে যাওয়ায় সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রান্নার স্বাভাবিক ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে ইট বসিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে সেই সুযোগও থাকে না। তিনি বলেন, সন্তানদের ঠিকমতো খাবার দিতে পারছেন না এবং গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন পরিবারের সদস্যরা।

একই প্রকল্পের বাসিন্দা মুন্নি বেগম জানান, মাটির চাপে রান্নাঘর, টিনের কাঠামো ও বাথরুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই মাটি সরানোর চেষ্টা করছেন। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শ্রমিক নিয়োগ করাও সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, তার স্বামী অসুস্থ এবং ছোট ছোট সন্তানদের সহযোগিতায় কষ্ট করে মাটি অপসারণ করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নদী খননের কাজ শুরু হয়। প্রথম দিকে কাজ স্বাভাবিকভাবে চললেও সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ মাটি ফেলার কারণে অনেক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার দাবি, মাটির চাপে দেয়াল ফেটে গেছে, টয়লেটের ট্যাংকি নষ্ট হয়েছে এবং ভারী যন্ত্র দিয়ে মাটি সরানোর সময় ঘরগুলো কেঁপে ওঠে। তিনি জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ বাসিন্দাই দরিদ্র পরিবারের সদস্য।

বেবি বেগম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রান্না ও টয়লেট ব্যবহারের উপযোগী পরিবেশ নেই। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গরমে শিশুদের কষ্ট আরও বেড়েছে।

চামেলী দাস জানান, মাটির চাপের কারণে ঘরের পেছনের বাথরুমগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি নিজেও অসুস্থ এবং বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে। তার ভাষ্য, শিশুরা স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনাও করতে পারছে না।

ডুমুরিয়ার আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন বলেন, বরাতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে মোট ১২৫টি ঘর রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করছে। তিনি জানান, গত দুই দিনে অধিকাংশ মাটি অপসারণ করা হয়েছে এবং বর্তমানে ঘরগুলো ঝুঁকিমুক্ত অবস্থায় রয়েছে।

গত ১৪ জুন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর পেছনে জমে থাকা মাটি অপসারণের কাজ শুরু হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, যশোর-ভবদহ ও খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে ভদ্রাসহ কয়েকটি নদী খননের কাজ চলছে, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কিছু উপকারভোগী ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করতে তারা সেখানে গিয়েছেন এবং যাদের ক্ষতি হয়েছে, তা পুষিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর-ভবদহ ও খুলনা অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ভদ্রাসহ ছয়টি নদীর প্রায় ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার এলাকায় খননকাজ চলছে। চুকনগর থেকে বরাতিয়া পর্যন্ত ভদ্রা নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৪০০টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর রয়েছে। নদী খননের মাটি সংরক্ষণের কারণে এসব ঘরের অনেকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সেখানে বসবাসরত বহু নিম্নআয়ের পরিবার বর্তমানে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কী কথা উজানে দেবো: শামীম কবীর স্মরণ ও পাঠ

কী কথা উজানে দেবো: শামীম কবীর স্মরণ ও পাঠ গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব ও বন্ধু সমাবেশ

‘মাটি চাপা দেওয়ার পর খুব কষ্টে আছি’

‘মাটি চাপা দেওয়ার পর খুব কষ্টে আছি’

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার সুখ-দুঃখের ইতিহাস

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার সুখ-দুঃখের ইতিহাস

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে সকালে মাঠে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা

শিরোপা ধরে রাখার মিশনে সকালে মাঠে নামছে মেসির আর্জেন্টিনা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App