মাদক সেবনের ছবি ফেসবুকে
দু’পক্ষের সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ
মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মাদক সেবনের ছবি ফেসবুকে প্রচার করাকে কেন্দ্র করে মাগুরার মহম্মদপুরে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয়টি বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের দশজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আটজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে মহম্মদপুর থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলো— মো. লাকু শেখ, ইউনুস মোল্লা, মো. বাদশাহ শেখ, সিরাজুল ইসলাম শেখ, মো. নাজমুল বিশ্বাস, মো. সুজন কাজি, মো. শহিদুল ইসলাম শেখ এবং মো. সাহেব আলী। গতকাল রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।
সূত্র জানায়, উপজেলার কানুটিয়া ও মৌশা গ্রামের দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে এদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ছয়টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিকাণ্ডসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে দশজন আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আটজনকে আটক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আহতরা উপজেলা ও জেলা বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন এবং অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, কানুটিয়া এলাকার হাসানের ছেলে আজম এক সপ্তাহ আগে মৌশা এলাকায় গিয়ে মাদক সেবন করছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে বাধা দেন। এতে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে আজমকে মারধর করেন স্থানীয়রা। পরে আজমের মাদক সেবনের একটি ছবি এবং তার পিতা হাসানের মাদকের ব্যবসা আছে বলে সজিব আহমেদ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা হয়। পরে সেটি ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় হৈচৈ পড়ে যায়। এ ঘটনায় কানুটিয়া ও মৌশা এলাকার মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
আরও জানা যায়, মৌশা গ্রামের রবিউল ইসলাম রবি নামের একটি ছেলেকে গাঁজাসহ পুলিশে ধরিয়ে দেয় কানুটিয়া গ্রামের হাসানের সমর্থক লিয়াকত। এর জেরে রোববার বিকেলে কানুটিয়া বাজারে লিয়াকত সমর্থক হাসানের লোকজন ও মৌশা গ্রামের বায়েজিদ সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত দশজন আহত হন।
এ সময় রাসেল ফকির, মিঠুন, বায়েজিদ হোসেন, আবুল বাশার মুন্সিসহ ছয়জনের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এবং ভাঙচুরের সময় বায়েজিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটজনকে আটক করে।
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম হোসেন জানান, ঘটনাস্থল থেকে আট ব্যক্তিকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে মাদক ও সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
