চীনা নাগরিক কর্তৃক বাংলাদেশি তরুণীকে চুক্তিভিত্তিক বিয়ের গুঞ্জন, যা জানা গেল
মো. রাজীব চৌধুরী রাজু, নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত এক চীনা নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর বিয়ের গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওটিতে ‘১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তিতে বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে’। তবে এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা এখন পর্যন্ত পায়নি পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল হোসেনের মেয়ে মাইশা আক্তার জুইয়ের সঙ্গে উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত চীনা নাগরিক লিয়াউ জিচুনের পরিচয় হয় কর্মসূত্রে। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে, গত ১০ জুন আদালতে হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন লিয়াউ জিচুন। ধর্মান্তরের পর নিজের নাম রাখেন ‘নুর মোহাম্মদ’। ৩ লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে এবং নগদ ৫ হাজার টাকা পরিশোধের মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। ১৮ জুন পারিবারিক আয়োজনে বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের বিদায় অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কনেকে আবেগাপ্লুত অবস্থায় কাঁদতে দেখা যাওয়ায় বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য শুরু হয়। ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে এটি ভালোবাসার বিয়ে নয়; বরং অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের একটি চুক্তিভিত্তিক বিয়ে বলে দাবি ছড়ানো হয়। তবে এসব দাবির বিপরীতে স্থানীয় অনেকেই বিয়েটিকে স্বাভাবিক ও পারিবারিক বিয়ে হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন মন্তব্যে এ বিয়ে নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। তবে কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে মন্তব্য করা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, “এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা জেনেছি আইনগতভাবে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে। ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তিতে বিয়ের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।”
চুক্তিভিত্তিক বিয়ে সংক্রান্তে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০১, নীলফামারীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. আসাদুজ্জামান খান রিনো বলেন, “এটা মুতা বিবাহ। ইরান ব্যতীত কোনো মুসলিম দেশে এই বিয়ে অনুমোদিত নয়। মূলত এটা প্রাক-ইসলামিক সিস্টেম। ইসলামী শরিয়াহ আইন এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন এই ধরনের চুক্তিভিত্তিক (মুতা) বিয়ে অনুমোদন করে না।”
তিনি আরও বলেন, “নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত গুজবের ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।”
