শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: আত্মপক্ষ সমর্থনে এজলাসে সোহেল ও স্বপ্না
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৫০ এএম
ছবি: সংগৃহীত
শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য এজলাসে তোলা হয়েছে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে। বুধবার (৩ জুন) সকালে তাদের আদালতে তোলা হয়।
আসামিরা নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ পাবেন।
এর আগে গত মঙ্গলবার মাত্র এক দিনেই এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় রামিসার বাবা, মা, বোন ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন সাক্ষ্য দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
আজ বুধবার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরই জানা যাবে এই মামলার রায়ের তারিখ।
গত ২৪ মে আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুই আসামির বিরুদ্ধে সোমবার (১ জুন) ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৪ মে আদালত পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ১ জুন অভিযোগ গঠন শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তদন্তে ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক আলামতের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে রুমের ভেতরে নেয়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন তার মা।
এক পর্যায়ে আসামির ঘরের সামনে শিশুটির একটি স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ডাকাডাকির পর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর দেখতে পান সোহেল রানার শোবার ঘরের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ। আর তার মাথা পড়ে রয়েছে বাথরুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ২০ মে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জবানবন্দিতে জানায় সে।
