স্পেশাল প্রসিকিউটর
মাত্র ৪ কার্যদিবসে রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার রায় ‘মাইলফলক’
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের অর্থদণ্ড ও ভুক্তভোগীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম মূলত চার কার্যদিবসের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ হিসাব অনুযায়ী পাঁচ কার্যদিবস বলা যেতে পারে। শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের মামলায় এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়াকে তিনি বিচার বিভাগের জন্য একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, রায়ের শুরুতেই আদালত শিশু সুরক্ষাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। কোনো শিশুর বিরুদ্ধে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হলে দয়া বা করুণার সুযোগ না রেখে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই বিবেচনায় উভয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অ্যাডভোকেট দুলু আরো বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মামলাটি পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে যাবে। তিনি বলেন, ‘ডিউ প্রসেস অব ল’ বা আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা একটি সভ্য রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। পরবর্তী ধাপে সরকার ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এ অর্থ রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীদের প্রদান করা হবে।
রায়ে আরো বলা হয়েছে, নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগীর উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি স্বপ্না খাতুনকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার আগ পর্যন্ত তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে দুজনকে এজলাসে তোলা হলে বেলা ১১টার পর বিচারক রায় পাঠ শুরু করেন।
