‘ছাগলকাণ্ড’
আলোচিত সেই মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরুর আদেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি. এম. তারিকুল কবীর এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম।
আরো পড়ুন: অবশেষে জনসম্মুখে আসছেন শেখ হাসিনা
এর আগে মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য মতিউর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ গঠনের আবেদন মঞ্জুর করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন করেছেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
যেভাবে আলোচনায় আসেন মতিউর
২০২৪ সালের কোরবানির ঈদের সময় ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল কেনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনায় মুশফিকুর রহমান ইফাতকে মতিউর রহমানের ছেলে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হলে বিষয়টি দেশজুড়ে ‘ছাগলকাণ্ড’ নামে পরিচিতি পায়।
এরপর মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সম্পদ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর ২০২৪ সালের ৪ জুন দুদক তার এবং পরিবারের সদস্যদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে তাদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব এবং শেয়ারবাজারের বিও হিসাব জব্দ (ক্রোক) করা হয়।
অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এখন মামলাটি পূর্ণাঙ্গ বিচারপর্বে প্রবেশ করলো। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
