শ্যামল দত্তসহ ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান সিপিজের
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে নতুন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক এই সংগঠনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়। সংগঠনটি এই ৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা নতুন মামলা প্রত্যাহার এবং সংবাদ সংগ্রহ ও সাংবাদিকতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: পিংক বাসের সেবা নিতে পারবে কি পুরুষরা?
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে সিপিজে জানিয়েছে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আলাদা মামলায় ২০২৪ সাল থেকে আটক থাকা ওই ৩ সাংবাদিককে আগামী ২৪ আগস্ট দেশীয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হবে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন দমনে সাংবাদিকরা ভূমিকা রেখেছিলেন। ওই আন্দোলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সাংবাদিক শেখ হাসিনাকে ‘উসকানিমূলক’ প্রশ্ন করেছিলেন। এর জেরে হাসিনা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেন এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন অভিযান শুরু হয় বলে প্রসিকিউশনের দাবি।
আরও পড়ুন: ‘প্রধানমন্ত্রী আমার দুলাভাই, শালী হিসেবে অনেক দাবি আছে’
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়কারী কুনাল মজুমদার বলেন, সংবাদ সম্মেলনে শুধু প্রশ্ন করার কারণে সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা অত্যন্ত আপত্তিকর ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক। সম্পাদনা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষপাতদুষ্ট বা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে, কিন্তু সেটিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে এবং গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। অবিলম্বে ৩ সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানান কুনাল মজুমদার।
সিপিজে বলছে, তাদের ই-মেইলে পাঠানো মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় এবং প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়।
একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক ফারজানা রূপাকে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর দমন-পীড়নের অন্য একটি আইসিটি মামলায় চলতি বছরের মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ ৩৯ জনের সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আটক রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধেও একাধিক হত্যার মামলা দেওয়া হয়েছে।
