পিংক বাসের সেবা নিতে পারবে কি পুরুষরা?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীর সড়কে চালু হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ‘মহিলা বাস সার্ভিস’। গোলাপি রঙের কারণে যাত্রীদের কাছে এরই মধ্যে এটি ‘পিংক বাস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। নারী চালক ও কন্ডাক্টরের পরিচালনায় চলা এই বাসে কারা যাতায়াত করতে পারবেন, কোথায় কোথায় চলবে এবং ভাড়া কত- এসব নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মোট ১৪টি বাস দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে পিংক বাস।
পিংক বাসে পুরুষরা উঠতে পারবেন?
পিংক বাস সার্ভিস মূলত নারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে চালু করা হয়েছে। বাসগুলোর চালক ও কন্ডাক্টর হিসেবে নারী কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে এ সেবায় নারী যাত্রীদের অগ্রাধিকার থাকবে এবং নারী যাত্রীদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।
ঢাকায় চলবে ১০ রুটে
প্রাথমিকভাবে রাজধানীর ১০টি রুটে ১০টি পিংক বাস চলাচল করবে। বিআরটিসির রুট তালিকা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রুট হলো-
নতুন বাজার (কোকাকোলা)- মতিঝিল: কোকাকোলা, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, আবুল হোটেল, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান ও মতিঝিল।
আরও পড়ুন: চালুর প্রথম দিনেই পিংক বাসে বলাকার ধাক্কা
তালতলা-মতিঝিল: তালতলা, খিলগাঁও রেলগেট, বাসাবো, বৌদ্ধ মন্দির, মুগদা, কমলাপুর রেলস্টেশন, আরামবাগ, শাপলা চত্বর, সচিবালয় হয়ে মতিঝিল।
ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও: ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, বাঁশের পুল, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, জনপথ মোড়, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, পল্টন, সচিবালয় ও জিপিও।
এ ছাড়া মিরপুর-১০, মিরপুর-১২, মিরপুর-১, নারায়ণগঞ্জ, মোহাম্মদপুর, আদাবর এবং গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও পিংক বাস চলবে। এসব রুটে মিরপুর, মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টন, শাহবাগ, ফার্মগেট, গাবতলী ও শ্যামলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো যুক্ত রয়েছে।
বিআরটিসি জানিয়েছে, ঢাকার ১০টি বাসের মধ্যে একটি একতলা এবং নয়টি দ্বিতল। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় দুটি করে বাস দিয়ে সেবা শুরু হয়েছে।
টিকিট ও ভাড়া
পিংক বাসে ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু করেছে বিআরটিসি। এ জন্য সম্প্রতি বিআরটিসি ও ‘সহজ ডট কম’-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক হয়েছে। ফলে নারী যাত্রীরা বাসে ওঠার আগেই ডিজিটাল মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাস, ডিপো ও কাউন্টারের দৃশ্যমান স্থানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঢাকার রুটভেদে ভাড়া নির্ধারিত হলেও বিস্তারিত ভাড়ার তালিকা বিআরটিসির পক্ষ থেকে আলাদাভাবে জানানো হয়েছে। চট্টগ্রামের পিংক বাসে দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়া ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৬৮ টাকা।
নিরাপত্তায় বিশেষ নজর
পিংক বাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টর। ফলে নারী যাত্রীরা নারী কর্মীদের মাধ্যমে সেবা নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া প্রতিটি বাসে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ভিটিএস) রয়েছে। এর মাধ্যমে বাসের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা যাবে। বাস ও কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট স্টপেজও নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্যাংকের বাইরে টাকা জমাবেন যেভাবে
বিআরটিসির মতে, নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানোর ফলে ইচ্ছেমতো যাত্রী ওঠানামার প্রবণতা কমবে এবং নারী যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়বে।
কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
নতুন এই সেবা নিয়ে নারী যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা গেছে। উদ্বোধনের দিন তেজগাঁওয়ে পিংক বাসে ওঠা নারী যাত্রী ঐশি বলেন, সাধারণ বাসে চলাচলের সময় নারীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। নারী চালক, কন্ডাক্টর ও সহযাত্রী থাকায় পিংক বাসে তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন।
কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত রুটে বাসগুলো নিয়মিত ও সময়মতো চললে প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। বিশেষ করে অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ব্যস্ত সময়ে এই সেবা কার্যকর হলে নারীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন হয়ে উঠতে পারে।
বাড়বে বাস ও রুট
যাত্রীদের চাহিদা ও সেবার সাড়া বিবেচনা করে ভবিষ্যতে পিংক বাসের সংখ্যা ও রুট বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিআরটিসি। শুরুতে ১৪টি বাস দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও সাড়া ভালো পেলে রাজধানীর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য শহরেও এ সেবার পরিধি বাড়ানো হতে পারে।
নারী চালক ও কন্ডাক্টর নিয়োগের ফলে নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট স্টপেজ, ই-টিকিটিং, ভিটিএস এবং নারী কর্মীদের সমন্বয়ে পিংক বাস দেশের গণপরিবহনে নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে।
