আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১২:২২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আজ বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। প্রতি বছর ৩ মে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয় আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার।’
১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৩ মে তারিখকে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমকর্মীরা দিবসটি পালন করে আসছে।
দিবসটিতে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণের অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ প্রতিহতের শপথ এবং ত্যাগী সাংবাদিকদের স্মরণ ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
তবে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অর্ধেকেরও বেশি দেশ ‘কঠিন’ অথবা ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সূচকে থাকা বিশ্বের ১৮০টি দেশ ও অঞ্চলের গড় স্কোরও এর আগে কখনও এত নিচে নামেনি। বৈশ্বিক এই অবনতির তালিকায় বাংলাদেশও পিছিয়েছে। গত বছরের তুলনায় ২০২৬ সালের সূচকে তিন ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৫২তম।
আরো পড়ুন : ড. ইউনূসের শাসনামলে ৪৯৬ সাংবাদিক নির্যাতন, জামিন সংকটে অনেকে
এমন পরিস্থিতিতে আজ (৩ মে) বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে একটি আদর্শিক ও অভিজ্ঞতালব্ধ চালিকাশক্তি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এবারের আয়োজন। ইউনেস্কো এবং জাম্বিয়া সরকারের যৌথ উদ্যোগে মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে লুসাকা শহরে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে আজ সকাল ১০টায় ধানমন্ডি ২৭-এর মাইডাস সেন্টারে ইউনেস্কো ঢাকা অফিস ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর যৌথ আয়োজনে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়) ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সুজান ভাইজ, জার্মান রাষ্ট্রদূত, সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। সকাল ৯টায় অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণ থেকে র্যালি শুরু হয়ে তথ্য ভবন কমপ্লেক্সে গিয়ে শেষ হবে। পরে সার্কিট হাউস রোডে অবস্থিত তথ্য ভবন কমপ্লেক্সের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী।
দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও এদেশে প্রকৃত অর্থে ‘মুক্ত গণমাধ্যম’-এর স্বাদ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হলেও এটি এখনো সংবিধানে স্বীকৃত নয়। তাই সাংবিধানিকভাবে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
