খামেনির শেষ বিদায়ে যোগ দিলে মার্কিন সহায়তা বন্ধের হুমকি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের রাজধানী তেহরানে আয়োজিত দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশকে অংশ না নিতে কূটনৈতিকভাবে চাপ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একটি সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে এমন দাবি করেছে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম।
শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ওই সূত্র দাবি করেন, গত পাঁচ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন দেশকে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তেহরানে না যাওয়ার জন্য সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন।
সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো একটি গোপন নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে জানাতে বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার শেষকৃত্যে অংশগ্রহণকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অবন্ধুসুলভ পদক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। এতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও ওই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আরব কূটনীতিকের বরাত দিয়ে তাসনিম জানায়, মার্কো রুবিও অন্তত পাঁচটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আরো পড়ুন : ইরান সমঝোতা করতে মরিয়া : ট্রাম্প
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরাও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, তারা যদি খামেনির শেষকৃত্যে অংশ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নয়ন সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।
তাসনিমের দাবি, উত্তর আফ্রিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কায় শেষকৃত্যে তাদের প্রতিনিধিত্বের স্তর কমিয়ে দেয়।
ওই সূত্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে অন্তত ১৩টি দেশ শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায়। এর মধ্যে পূর্ব ইউরোপের তিনটি, আফ্রিকার পাঁচটি, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দুটি এবং পূর্ব এশিয়ার দুটি দেশ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে শেষকৃত্যে অংশ নিতে না পারা কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতাকারী কিংবা জেনেভা ও নিউইয়র্কে অবস্থিত নিজেদের কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে ইরানের কাছে দুঃখ প্রকাশ এবং তাদের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ ছাড়া কয়েকটি দেশ তেহরানে নিযুক্ত নিজেদের কূটনীতিকদের অনুষ্ঠানে পাঠানোর প্রস্তাব দিলেও ইরান তা গ্রহণ করেনি।
