সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের নৌ-অবরোধ ঘোষণা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হুথিদের এ ঘোষণার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বিশ্ববাজারে তেল পরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে হুথিদের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ইয়েমেনের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আরোপিত অবরোধের জবাবে ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ইরান হুথিদের সতর্ক করেছিল—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় ৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ফলে এ পথে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হুথিদের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনার খবর প্রকাশের পর বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
এদিকে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পৌঁছেছে। এর লক্ষ্য হলো সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী সমঝোতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ তৈরি করা।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
পাকিস্তানের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি ইসলামাবাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে পুনরায় মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে চলাচলকারী দুটি তেলবাহী জাহাজ বিস্ফোরণের শিকার হয়েছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
একই সময়ে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদ রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, বাণিজ্যিক নৌপরিবহন সক্ষমতা দুর্বল করতে ইরানের বিরুদ্ধে টানা নবম রাতের মতো সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আকাবা বিমানবন্দর, কুয়েতের আল-আদিরি ক্যাম্প, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়ার কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথ নিয়ন্ত্রণের যেকোনো প্রচেষ্টার জবাব দেবে ওয়াশিংটন। তবে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি এবং মধ্যস্থতাকারীদের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
