মাদকসেবী রুবেল খুনের রহস্য উন্মোচন, ৪ ভাই গ্রেপ্তার
রুহুল আমীন খান, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহ নগরীর আর কে মিশন রোডে চাঞ্চল্যকর মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী রুবেল (৩৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মায়ের ওপর চালানো নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ নিতেই চার ভাই মিলে রুবেলকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই চার ভাইকে গ্রেপ্তার করার পর পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে তারা খুনের দায় স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই স্থানীয় পারুল বেগমের ছেলে। সোমবার বিকেল ৩টায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
পিবিআই জানায়, নিহত রুবেল এলাকায় চিহ্নিত বখাটে, মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রায় এক মাস আগে সে পারুল বেগমদের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠে। সেখানে লিপ্ত হয় বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে। বিষয়টি নজরে এলে বাড়ির মালিক পারুল বেগম রুবেলকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এতে পারুলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রুবেল।
পুলিশ জানায়, গত রোববার সকালে রুবেল ঘুম থেকে উঠে পারুল বেগমের ঘরে গিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মারধর এবং শ্লীলতাহানি করে। সে সময় পারুলের মেজো ছেলে জনি ঘরেই উপস্থিত ছিলেন। মায়ের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন ও অপমান দেখে জনি ও তার অন্য ভাইয়েরা চরম ক্ষুব্ধ হন। এর কিছুক্ষণ পর সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে চার ভাই মিলে রুবেলের ঘরে ঢুকে তার গলা কেটে হত্যা করে।
এ ঘটনায় রুবেলের বাবা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের নামে সোমবার মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, "আসামিরা গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী মা পারুল বেগম বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে শ্লীলতাহানি ও মারধরের বিষয়টি স্পষ্ট। বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে চিকিৎসকদের মেডিকেল রিপোর্টের পর।"
উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে নগরীর আর কে মিশন রোডের নিজ ভাড়া বাসা থেকে রুবেলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রকাশ্য দিবালোকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো ময়মনসিংহ নগরীজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
