ময়মনসিংহে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে নগরবাসী
রুহুল আমীন খান, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
টানা সাড়ে আট ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও নিচু এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাত থেকে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে প্রধান সড়ক, হাসপাতাল, অলিগলি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার অনেক অংশ তলিয়ে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
নগরবাসীর অভিযোগ, এই দুর্ভোগের মূল কারণ বিগত সময়ের অপরিকল্পিত নগরায়ন। তাদের দাবি, শুরু থেকেই ময়মনসিংহের সুশীল সমাজ এ বিষয়ে সতর্ক করে আসছিল। সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভাষ্য, অতীতে দায়িত্বরত সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু এবং তার প্রশাসনিক দুর্বলতার পাশাপাশি উন্নয়নকাজে জবাবদিহিতার অভাবের কারণেই আজ নগরবাসীকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নগরীর চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, "বিগত সময়ে দায়িত্বরত সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু ও তার প্রশাসনিক দুর্বলতার পাশাপাশি উন্নয়নকাজে জবাবদিহিতা না থাকায় আজ সাধারণ মানুষকে এত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।"
নগরীর সানকিপাড়া, আকুয়া, গোলকিবাড়ী, বলাশপুর, চরপাড়া, খাগডহর, গাঙ্গিনারপাড়, নতুন বাজার, জেলা স্কুল মোড় ও কেওয়াটখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। অনেকের বসতঘরেও পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে, অনেক স্থানে ড্রেন উপচে নোংরা পানি সড়কে উঠে আসায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অতীতেও একই ধরনের বৃষ্টিতে এসব এলাকায় বারবার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সাড়ে আট ঘণ্টায় ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি বছরে ময়মনসিংহ জেলার সর্বোচ্চ। এই অতিবৃষ্টির কারণেই নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সানকিপাড়া রেলক্রসিং এলাকার ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বলেন, "পূর্বের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং বর্তমান চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, যা প্রতি বর্ষা মৌসুমেই নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়।"
হেলথ অফিসারের গলির বাসিন্দা হামিদা আক্তার বলেন, "ড্রেন পরিষ্কার না থাকায় পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাসায় পানি ঢুকে আসবাবপত্র ভিজে গেছে। আমরা প্রতি বছর এ সময় চরম ভোগান্তির মধ্যে থাকি। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও আমাদের এই অবস্থা।"
চরপাড়া মোড় এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালে রোগী নিয়ে এসে ভোগান্তিতে পড়েন জামালপুরের আবুল বাশার। তিনি বলেন, "রাস্তায় হাঁটুপানি থাকায় কয়েকশ মিটার পথ অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে যেতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। হাসপাতালেও পানি উঠে যাওয়ায় আমার মতো অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন।"
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, "শুধু অস্থায়ীভাবে পানি অপসারণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, খাল পুনরুদ্ধার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। শহরের অনেক জায়গায় ড্রেনের মাঝখানে আগে থেকেই বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই মানুষের বাসাবাড়িতে পানি উঠে ভোগান্তি বাড়ছে।"
