গালিবাফ
ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি ব্যর্থ হওয়ার দায় যুক্তরাষ্ট্রের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি কার্যত ভেঙে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপই চুক্তি বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং এর ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিটি কার্যত ব্যর্থ হয়ে গেছে। চাপ, হুমকি ও জবরদস্তির রাজনীতি আর কার্যকর হবে না। ইরান কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।’
এদিকে, তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়েছে। তার অভিযোগ, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে তেহরান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেছে।
ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা সময়ের অপচয় হবে।
গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৪ দফার ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় ইরান। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বন্দরসংক্রান্ত অবরোধ শিথিল করার অঙ্গীকার করে। চুক্তির মেয়াদ ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তবে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর বিরুদ্ধে। এরপর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ৮০টি সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞাও পুনর্বহাল করে।
সেন্টকম জানায়, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট ৮৫টি স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
