গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নামে ১৩৭টি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে গুজব, অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপ ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২১তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯-এর সংসদ সদস্য ফাহিমা নাসরিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত ১৩৭টি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, পেজ ও গ্রুপের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের আদলে পরিচালিত ১৬টি অপতথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট, ৩০০টির বেশি বিভ্রান্তিকর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এবং ১০০টি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টও চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত ‘বাংলাফ্যাক্ট’ প্ল্যাটফর্ম অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটি ৮৬০টি ফ্যাক্টচেক, বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভিডিও ও রিল প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রকাশিত হয়েছে ৩০৬টি প্রতিবেদন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচটি দাবির সত্যতা যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও জানান, সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মশালায় মোট ৬ হাজার ৭৭৪ জন সাংবাদিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত ২০টি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন ৭৩৯ জন সাংবাদিক।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় ডিজিটাল সাংবাদিকতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ে ১৪টি বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি প্রশিক্ষণে গুজব প্রতিরোধ, তথ্য যাচাই এবং সাংবাদিকতায় এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য শিগগিরই একটি ‘ফ্যাক্টচেক ম্যানুয়াল’ প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
