নোয়াখালীতে ছাত্রলীগ নেতাকে জবাই করে হত্যা
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২২, ০৭:১১ পিএম
নিহত ছাত্রলীগ নেতা মো. হাসিবুল বাশার। ছবি: ভোরের কাগজ
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে মো. হাসিবুল বাশার (২৫) নামে এক ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার গোপালপুর-১ নম্বর ওয়ার্ডের কোটরা মোহাব্বতপুর গ্রামের জোড়া পোল এলাকার প্রধান সড়কের ওপর এ হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত হাসিবুল বাশার ওই গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরোধের জেরে যুবলীগের হাসান বাহিনীর লোকজন এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, গোপালপুর ইউনিয়ন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় হাসান ও সোহাগের নেতৃত্বাধীন উপদলের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় সোবহান মার্কেট দিয়ে বন্ধু বিপ্লবের মোটরসাইকেল নিয়ে বিপ্লবসহ পশুহাটে যাওয়ার সময় হাসানের সমর্থক মাসুম, মিন্টু, জয়, জাহিদসহ কয়েকজন অস্ত্রধারী হাসিবুলের পথ আটকায় এবং তাকে তুলে নিয়ে যায়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহাত চৌধুরী বলেন, পূর্বশক্রতার জের ধরে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কোটরা মহব্বতপুর গ্রামের বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী হাসান, মাদক ব্যবসায়ী মাসুম ও তাদের অস্ত্রধারী সাঙ্গপাঙ্গরা হাসিবুলের ওপর হামলা চালিয়েছে। একপর্যায়ে তারা হাসিবুলকে ছুরি দিয়ে মাথায় কুপিয়ে ও জবাই করতে শুরু করে। আগে থেকেই এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মুখ তারা। তাদের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের চাচা মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, হাসানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সোবহান মার্কেট থেকে হাসিবুলকে তুলে জোড়া পোল এলাকায় নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও জবাই করে জখম করে পালিয়ে যায়। পরে এলাকার লোকজনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসিবুলকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় হাসানের সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
