আগামী নির্বাচনে নির্দলীয় সরকারের বিকল্প নেই
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৩, ১২:০০ এএম
এক দফার প্রাথমিক কর্মসূচিতে ২ দিনের পদযাত্রা
সরকার পদত্যাগের ‘একদফা’ দাবি আদায়ে ২ দিনের পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজপথের অন্যতম প্রধান বিরোধীদল বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী ১৮ জুলাই মঙ্গলবার ঢাকাসহ সব বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে পদযাত্রা। ১৯ জুলাই বুধবার শুধু রাজধানী ঢাকায় পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানী ঢাকায় ১৮ জুলাই সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গাবতলী হতে যাত্রাবাড়ী এবং ১৯ জুলাই সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উত্তরার আবদুল্লাহপুর হতে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
গতকাল বুধবার বিকালে নয়াপল্টনের সমাবেশ থেকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এবং উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক ও দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় এ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন, আবদুস সালাম আজাদ, কামরুজ্জামান রতন, রকিবুল ইসলাম বকুল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানি, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসাইন, ?কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মীর নাসির, ঃফজলুর রহমান, মিজানুর রহমান মিনু, হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুল খায়ের ভূঁইয়া, শাহজাদা মিয়া, লুৎফর রহমান খান আজাদ, মজিবুর রহমান সারোয়ার, মাহবুবউদ্দিন খোকন, আসাদুজ্জামান রিপন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্যামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মীর সরাফত আলী সপু, সেলিম ভূঁইয়া, নাজিম উদ্দিন আলমসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশের পাশাপাশি বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে সভা-সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রমঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, সমমনা গণতান্ত্রিক পেশাজীবী জোট, এলডিপি, গণফোরাম, পিপলস পার্টি, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদের দুই অংশ যুগপৎ আন্দোলনের এক দফার ঘোষণা দেয়।
এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী, কর্তৃত্ববাদী সরকারের পদত্যাগ ও বিদ্যমান অবৈধ সংসদের বিলুপ্তি, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে তার অধীনে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, মিথ্যা-গায়েবি মামলা প্রত্যাহার, ফরমায়েশি সাজা বাতিল এবং সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে রাজপথে সক্রিয় বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও দলসমূহ যুগপৎ ধারায় ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা ও সফল করার ঘোষণা দিচ্ছি।
এর আগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জনগণের প্রতিবাদের সুনামি শুরু হয়েছে। আজকের এই সমাবেশ তার প্রমাণ। অনেক চেষ্টা করেছে এটাকে বানচাল করার। ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি। একটা মাত্র আশা মানুষের, পরিবর্তন চাই। তিনি বলেন, এই সরকার বাংলাদেশবিরোধী সরকার। এক দফা আর কোনো দফা নাই। এই এক দফা হচ্ছে জনগণের ভোটাধিকার হরণকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ববাদী অবৈধ সরকারের পদত্যাগ।
এই যুগপৎ আন্দোলনের বাইরে যেসব দল রয়েছে তাদেরও সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন আমরা একসঙ্গে সমবেত হয়ে একটা উত্তাল আন্দোলন গড়ে তুলে এই লুটেরা ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ববাদী সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থেই জনগণের একটা সরকার জনগণের একটা রাষ্ট্র নির্মাণ করতে পারি।
সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে আমাদের প্রাথমিক কর্মসূচি। এরপরেও আঙুলে ঘি না উঠলে কী করে উঠাতে হয় এ দেশের মানুষ তা জানে। এখনো সময় আছে এই ঘোষণার পরপরই পদত্যাগ করুন। অন্যথায় বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস পরিষ্কার করে বলে দেয়, তখন কিন্তু পালাবার পথও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। হতে দেয়া হবে না। ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এই সরকার আর থাকতে পারে না। তাদের বিদায় নিতে হবে। এটিই আমাদের এক দফা দাবি। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভোটচুরির প্রকল্পে যারাই জড়িত হবে তাদের জনতার আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। কেউ রেহাই পাবে না। জনগণ জেগেছে। যেতে হবে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে আর হবে না। সংবিধান তো তারা খেয়ে ফেলেছে। সংবিধান আছে? শেখ হাসিনার অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না এটা এখন সবাই বিশ্বাস করছে। নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।
সমাবেশে অংশ নিতে সকাল ৯টা থেকে নয়াপল্টনে জড়ো হতে শুরু করেন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন রঙের ক্যাপ মাথায় পরে, ব্যানার, ফেস্টুন, জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ এবং সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলে। সমাবেশের ব্যানারে লেখা হয়েছে ‘গণতন্ত্রের ঘাতক, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি ও সর্বনাশা অনাচারে লিপ্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পদত্যাগ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে যুগপৎ ধারায় বৃহত্তর গণআন্দোলনের এক দফা যৌথ ঘোষণা।
কঠোর অবস্থানে পুলিশ : সমাবেশ ঘিরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আশপাশে কঠোর অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা। কার্যালয়ের আশপাশে সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে গাবতলী, আমিনবাজার ও আবদুল্লাহপুরসহ কয়েকটি সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন চেক করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
ইন্টারনেট বন্ধ : সমাবেশস্থল নয়াপল্টন এলাকায় দুপুর থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। খবর পাঠানোর জন্য নয়াপল্টন সমাবেশস্থল থেকে সাংবাদিকদেরও অন্যত্র যেতে হয়েছে। কাকরাইল মসজিদ এলাকায় নেটওয়ার্ক ছিল স্বাভাবিক।
গণতন্ত্র মঞ্চ : বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ এক দফা যৌথ ঘোষণা করেন গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক সাইফুল হক। এ সময় জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।
লেবার পার্টি : বিকাল ৩টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে লেবার পার্টি একই কর্মসূচি ঘোষণা করে। দলটির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সঙ্গে এ সময় বাংলাদেশ মানবাধিকার সংরক্ষণ সংস্থার চেয়ারম্যান এডভোকেট জহুরা খাতুন জুই, লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন, এডভোকেট আমিনুল ইসলাম রাজু, হিন্দুরত্ম রামকৃষ্ণ সাহা, যুগ্ম মহাসচিব হুমাউন কবির, আবদুর রহমান খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক খোন্দকার মিরাজুল ইসলাম, ছাত্রমিশন সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
১২ দলীয় জোট : ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সেয়দ এহসানুল হুদা একই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ সময় কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দারসহ ১২ দলীয় জোটের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
