কিভাবে মারা গেলেন জল্লাদ শাহজাহান (ভিডিও)
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০৬:০১ পিএম
সোমবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জল্লাদ শাহজাহান। ছবি: ভোরের কাগজ
আলোচিত জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া আর নেই। সোমবার (২৪ জুন) রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
রোববার (২৩ জুন) গভীর রাতে সাভারের হেমায়েতপুরের একটি বাসা থেকে শাহজাহানকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেয়া হয়। সোমবার (২৪ জুন) ভোরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউল আজম ভূঁইয়া এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত ১০ জুন সাভারের হেমায়েতপুরে বাসা ভাড়া নেন শাহজাহান। সেখানে থাকতে শুরু করেছিলেন তিনি। ২৩ জুন দিবাগত রাত ৩টার দিকে তার বুকে ব্যথা উঠে। পরে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই এদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মারা যান আলোচিত জল্লাদ।
এসআই মশিউল বলেন, শাহজাহানের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে।
জল্লাদ শাহজাহানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বোন ফিরোজা বেগমও। তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকার অদূরে হেমায়েতপুরে থাকতেন আমার ভাই। রোববার রাতে তার বুকে ব্যাথা উঠে। পরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।
ফিরোজা বেগম বলেন, এদিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে তার মরদেহ গ্রহণ করেছি আমি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শাহজাহানের মরদেহ নরসিংদির পলাশ উপজেলার ইছাখালী গ্রামে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দিন (৪৪ বছর) কারাভোগ শেষে ২০২৩ সালের ১৮ জুন মুক্তি পান প্রধান জল্লাদ মো. শাহজাহান। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি জানান, তার থাকার জায়গাও নেই। বাড়িঘর কিছু নেই। তাই সরকার যেন একটা ব্যবস্থা করে দেয়।
শাহজাহান বলেন, একটি ফাঁসি দিতে প্রধান জল্লাদের সঙ্গে ছয়জন সহযোগী লাগে। ফাঁসির রায় কার্যকর করলে প্রত্যেক জল্লাদের দুই মাস চার দিন করে কারাদণ্ড মওকুফ হয়। এছাড়া কারাগারে যারা জল্লাদ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণও দিয়েছেন তিনি।
