খালেদা জিয়াকে স্মরণে নাগরিক শোকসভা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শোকসভা আয়োজনের উদ্দেশ্য, সময়সূচি ও দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন আয়োজকরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা শোকসভা সম্পর্কে এসব তথ্য তুলে ধরেন। জানানো হয়, নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এই শোকসভা শুক্রবার বেলা আড়াইটায় শুরু হবে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের আমন্ত্রণপত্র সঙ্গে আনার অনুরোধ করা হয়েছে।
শোকসভায় সভাপতিত্ব করবেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। প্রধান উদ্যোক্তা হিসেবে থাকবেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার পারিবারিক সদস্যদের পাশাপাশি শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এছাড়া পাহাড়ি জনগোষ্ঠী, সনাতন ধর্মাবলম্বী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখবেন।
আয়োজকরা জানান, শোকসভার শালীনতা ও গাম্ভীর্য বজায় রাখতে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে সেলফি তোলা, হাততালি দেওয়া কিংবা দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। অংশগ্রহণকারীদের সাদা-কালো পোশাক পরিধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। আয়োজকরা স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ বা জনসভা নয়।
অনুষ্ঠানের গেট দুপুর ১২টায় খুলবে। প্রবেশের জন্য নির্ধারিত গেট নম্বর ৬ ব্যবহার করতে হবে এবং বের হতে হবে আসাদ গেট দিয়ে। গেট নম্বর ১ ও ১২ দিয়ে আগত অতিথিদের গাড়ি বাণিজ্য মেলার মাঠে পার্কিং করা হবে। বকুলতলা গেট (গেট নম্বর ১২) দিয়ে কেবল পায়ে হেঁটে প্রবেশ করা যাবে।
আরো পড়ুন : নাজমুলকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিচ্ছে বিসিবি
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমন্ত্রণপত্র ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে তালিকাভুক্ত অতিথিদের জন্য প্রয়োজনে বিকল্প প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা থাকবে। মিডিয়াকর্মীদের ক্ষেত্রেও আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দাওয়াতপ্রাপ্ত রিপোর্টার, ক্যামেরাপারসন ও মাল্টিমিডিয়া কর্মীরাই অনুষ্ঠানে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে পুরো দেশ গভীর শোকে নিমজ্জিত হয়। তার জানাজা পরিণত হয়েছিল এক বিশাল শোকসমাবেশে। তবে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে স্মরণ করা এবং তার শিক্ষা ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এই নাগরিক শোকসভার আয়োজন।
তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট নাগরিকরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বক্তব্য রাখবেন। রাজনৈতিক দলগুলোকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তবে তারা বক্তব্য দেবেন না। শোকসভার মর্যাদা ও গাম্ভীর্য রক্ষা করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক কমিটির সদস্যরা সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, নাগরিক শোকসভাটি যেন শৃঙ্খলাবদ্ধ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্মরণীয় একটি আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
